সর্বশেষ সংবাদ :

খালেদা জিয়ার সফর উপলক্ষে উজ্জীবিত কুমিল্লা বিএনপি

Share Button

 

11c5nDSC_1296

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর ২০১৪।

আগামী ২৯ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০-দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া কুমিল্লা সফরে আসছেন। এ উপলক্ষে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসহ ২০-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা দারুণভাবে উজ্জীবিত। তাদের মধ্যে ফিরে এসেছে চাঙ্গাভাব।
এ ছাড়া ১০ বছর ধরে জিইয়ে থাকা জেলা বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধেরও অবসান হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায়ও নেতারা বিরোধ ভুলে তাদের দলীয় নেত্রীর আগমন উপলক্ষে জনসভা সফল করতে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের বর্ধিত সভা, প্রস্তুতি সভা, মিছিল-মিটিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে জেলা ও উপজেলাসহ নগরীতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
নেতাদের দাবি, কুমিল্লার এই জনসভা স্মরণকালের বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হবে এবং এ জনসভায় সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন দলের চেয়ারপারসন।
জানা যায়, দীর্ঘ ১০ বছর পর দূর হয়েছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিভক্তি। আগামী ২৯ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কুমিল্লার জনসভাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন এবং যুগ্ম সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু গ্রুপের কোন্দলের অবসান হয়েছে।
১১ নভেম্বর দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি রাবেয়া চৌধুরীর বাসভবনে সমঝোতা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ইয়াসিন ও সাক্কু তাদের অনুসারীদের নিয়ে উপস্থিত হন। ওইদিন সন্ধ্যায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলের বৈঠকে ইয়াছিন ও সাক্কু ঘোষণা দেন, ‘সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একত্র হয়ে দলের জন্য কাজ করতে হবে।’
এ ঘোষণায় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা দারুণভাবে উজ্জীবিত হয়।
সূত্র জানায়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের গ্রুপিং ছিল সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত লে. কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন বীর প্রতীক ও সাবেক এমপি বেগম রাবেয়া চৌধুরীর মধ্যে। এই দুই নেতা কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৫ সালে আকবর হোসেন মারা যাওয়ার পর রাবেয়া-আকবর কোন্দল রূপ নেয় ইয়াছিন-সাক্কু গ্রুপে। এর জের ধরে বেশ কয়েকবার নগরীতে দু’গ্রুপে প্রকাশ্য অস্ত্রবাজির ঘটনাও ঘটেছে।
২০০৮ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা ইয়াছিন গ্রুপের অভিযোগ ছিল তৎকালীন পৌর মেয়র মনিরুল হক সাক্কু গ্রুপ তার পক্ষে কাজ করেননি। একইভাবে ২০১৩ সালের কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু গ্রুপের অভিযোগ ছিল ইয়াছিন গ্রুপ তার পক্ষে কাজ করেননি। বিএনপির এই দুই নেতার বিরোধের কারণে জেলা বিএনপিসহ দলের প্রত্যেকটি অঙ্গসংগঠন ছিল দ্বিধা-বিভক্ত।
দীর্ঘদিন পর জেলা বিএনপির এই দুই নেতার বৈরী সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে অবসান হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন দলের সিনিয়র নেতারাও। জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ওই দুই নেতার ঐক্যকে আগামীদিনের রাজনীতিতে মাইলফলক ও তাদের ঐক্যের পথ ধরে কুমিল্লার সব উপজেলায় বিএনপিতে নেতৃত্বের বিরোধ মিটে যাবে বলে মনে করছেন।
এরই মধ্যে জেলার লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া খালেদা জিয়ার কুমিল্লা সফর সফল করতে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম রাবেয়া চৌধুরী কুমিল্লার বার্তা ডটকমকে বলেন, জেলা বিএনপির আয়োজনে ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা টাউনহল মাঠের জনসভায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। এ জনসভা হবে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা। কুমিল্লা বিএনপির আলোচিত দুই নেতা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। তাই আর কোনো বিরোধ বা বিভেদ নয়। এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন বেগবান করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, জনবিচ্ছিন্ন এই সরকারের সময় শেষ হয়ে এসেছে। কুমিল্লার এই জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে এবং এখান থেকেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs