সর্বশেষ সংবাদ :

খুলনায় শেখ হাসিনার জনসভা আজ

Share Button

রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
০৩ মার্চ, ২০১৮ সময়: ০৯,০১,AM,

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার খুলনায় আসছেন। খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তিনি। দেশের বিভাগীয় শহরে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জনসভা শুরু করেছেন। সেই ধারায় এটি চতুর্থ জনসভা। এর আগে সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীতে পৃথক ৩টি নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নৌকা মার্কায় ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি খুলনায় জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে অবশ্য ২০১৫ সালে একবার খুলনায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি খুলনা শিপইয়ার্ডে একটি যুদ্ধ জাহাজের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আজকের জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জনসভায় ১০ লক্ষাধিক জনসমাগম ঘটানোর মাধ্যমে ব্যাপক শোডাউন করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। খুলনা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকেও সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ জনসভায় অংশ নিবে। জনসভায় ১১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রশস্ত নৌকার আদলে সুসজ্জিত মঞ্চ করা হয়েছে। খুলনার ইতিহাসে এতবড় এবং ব্যয়বহুল মঞ্চ আগে কখনও নির্মাণ হয়নি। এই মঞ্চে ২৬০ জন নেতা বসবেন। প্রথম সারিতে ৩০ জন, দ্বিতীয় সারিতে ৩০ জন এবং শেষ সারিতে ১০০ চেয়ার বসানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ও জনসভা ঘিরে খুলনা বর্ণিল সাজে সেজেছে। সর্বত্র এখন সাজ সাজ রব। দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উত্সবের আমেজ বিরাজ করছে। বিভাগীয় জেলা সদরে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয় দুই সপ্তাহ আগে থেকে আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে অভিনন্দন মিছিল করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সারা নগরীতে শত শত মাইকিং চলেছে। জনসভাস্থল সার্কিট হাউজ মাঠে প্রবেশে নারীদের জন্য চারটি গেট করা হয়েছে। দুটি গেট পুরুষের জন্য। জনসভা নির্বিঘ্ন করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। জনসভার আগে বেলা ১১টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৫৮তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে প্রধানমন্ত্রী খুলনার মোট ৯৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরমধ্যে ৪৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৫২টি নতুন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর করা হবে। এছাড়া জনসভা থেকেই আসন্ন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নামও ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে যেসব দাবি তুলে ধরা হবে তার মধ্যে রয়েছে খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সংযোগ, খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা ক্যাডেট কলেজ, মেরিন একাডেমি, পূর্ণাঙ্গ আইটি ভিলেজ, শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে রিসার্চ সেন্টার, খুলনা জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও খুলনা প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু মিডিয়া হাউজ।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সমগ্র খুলনা মহানগরীকে। নিরাপত্তার জন্য সাড়ে তিন হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগরীর বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশ ও র্যাব পেট্রোল ডিউটিতে নেমেছে। খালিশপুর ঈদগাঁহ ময়দান থেকে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত ৯৩টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানো হয়েছে। শুধু জনসভা স্থলেই তিনটি স্থানে ২৪টি ক্যামেরা রয়েছে। জনসভা স্থলে ২০০ নারী পুলিশ নিরাপত্তায় থাকবে। মাঠে মেটাল ডিটেক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করবে। এছাড়া হোটেল, ছাত্রবাসগুলোতেও নজরদারি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাতায়াতের পথে সব দোকানপাট এক দিনের জন্য বন্ধ থাকবে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs