সর্বশেষ সংবাদ :

শাহজালাল ও শাহপরানের (র.) মাজার জিয়ারত করলেন খালেদা জিয়া যাত্রাপথে অভ্যর্থনায় বাধা-লাঠিচার্জ-জুতা প্রদর্শন

Share Button

রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
০৬ফেব্রুয়ারী,, ২০১৮। সময়: ১০,০০,PM

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এবং শাহপরানের (র.) মাজার জিয়ারত করেছেন। তিনি সেখানে কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়া দরুদ পড়ে মোনাজাত করেন। দুহাত তুলে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। এসময় দরগাহ দুটি ঘিরে ছিল লোকে লোকারণ্য। আট ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের তিন দিন আগে তার এই মাজার জিয়ারত একান্ত ব্যক্তিগত ধর্মাচার বলে দাবি করছে দলটি।

এর আগে সোমবার সকাল সোয়া ৯টায় সড়কপথে ঢাকা থেকে গাড়িবহর নিয়ে রওনা দিয়ে সিলেটে পৌঁছান বিকাল সাড়ে চার টায়। সিলেটে পৌঁছে তিনি সার্কিট হাউজে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় প্রথমে হজরত শাহজালাল (র.) ও পরে হজরত শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন। সিলেটের মাজারমুখী সড়কগুলো ছিল বিপুল সংখ্যক মানুষ। মিছিলে উত্তাল ছিল সড়কমালা।’ আমার নেত্রী আমার মা /বন্দী হতে দিবো না..এই শ্লোগানই ছিল তাদের মুখে।
এদিকে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর সিলেট যাত্রাপথে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন স্থানে জড়ো হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা, গ্রেফতার,পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিচার্জ ও জুতা প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। যাওয়ার সময় পুরো সড়কে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বেগম জিয়াকে নিরাপত্তা দেন।
তাকে সড়কে অভ্যর্থনা জানাতে আসা বিএনপির আইনসম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া,সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ,নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করা বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, নরসিংদী বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান উদ্দিন মোল্লা, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহার উদ্দিনসহ অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী আটক করে পুলিশ।এর মধ্যে সানাউল্লাহ মিয়াকে পুলিশ শিবপুর থেকে আটক করে গাড়িতে করে খানিক্ষণ রাস্তায় ঘুরিয়ে পরে ছেড়ে দেয়। সিলেট থেকে পঁয়ত্রিশ ও মৌলভীবাজার থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাত্রাবাড়ী থেকে নরসিংদী পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে কাউকে দাঁড়াতে দেয়নি। দোকানপাটও খুলতে দেয়নি। নরসিংদীতে বাধার মুখে পড়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। সেখানে ‘নৌকা’ স্লোগান দিয়ে জুতা প্রদর্শন করে শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বীরুর সমর্থকরা। বেলা ১১টা ২০মিনিটে নরসিংদীর বেলানগর বাজারের নরসিংদী জেলা কারাগারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হঠাৎ  কিছু লোক সেখানে নৌকার স্লোগান দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে জুতা প্রদর্শন করে। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল করে গাড়িবহরে বাধা দেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দিলে গাড়িবহর সামনে অগ্রসর হয়।

এরপর বেলা পৌণে ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কামারখোলা এলাকায় দলের চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে আসা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জের কারণে মূল সড়কের পাশে দাঁড়াতে পারেন নি। তবে গাউছিয়া রাস্তার এক পাশে, বেলাবোসহ বেশ কয়েকটি স্থানে নেতাকর্মী ব্যানার নিয়ে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। ভৈরবের এলাকায় পর থেকে নেতাকর্মীরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানান। খালেদা জিয়া বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে জড়ো হওয়া নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলেন।
জানা যায়, খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতা সাখাওয়াত। এ সময় পুলিশ সেখান থেকে সাখাওয়াতসহ চারজনকে আটক করে। অন্যদিকে, নজরুল নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচরুখীতে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ নজরুলকে আটক বলে স্থানীয়রা জানান। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ময়নুল হক এসব ঘটনায় মোট দশজনকে আটক করার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের বাধায় মহাসড়কে আসতে না পেরে বিভিন্ন গলিতে থেকে স্লোগান দিয়ে খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেখা যায় নেতা-কর্মীদের।
নরসিংদীর কামারটেকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকশ নেতা-কর্মী স্লোগান দিলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। খালেদা জিয়া তখন কয়েক মিনিটের জন্য গাড়ি থামিয়ে রাস্তার পাশ থেকে বিএনপির কয়েকজন নারী কর্মীকে ডেকে কথা বলেন।
নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন দাবি করেন, চেয়ারপারসনের গাড়িবহর নরসিংদী পার হওয়ার সময় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পৌণে ১২টার মধ্যে নরসিংদী শহর, মাধবদী ও শিবপুর থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়াসহ ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহর কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৌঁছানোর আগে ও পরে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহার উদ্দিন, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারিকুজ্জামান পানেলকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা থেকে সিলেটে যাওয়ার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে বিক্ষিপ্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ইটপাটকেলে ভৈরব থানা ওসি মোখলেসুর রহমান, তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, সাব ইন্সপেক্টর মাজারুল ইসলাম, সাব ইন্সপেক্টর আজিজ আহত হয়েছেন।
ভৈরব সার্কেলের এএসপি কামরুল ইসলাম জানান, বেগম খালেদা জিয়া ভৈরব অতিক্রমকালে বিএনপির উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা পুলিশের কাজে বাধার সৃষ্টি করলে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। সরকারিকাজে বাধা দেয়ার অপরাধে চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে বলে তিনি জানান।
সুরমা নদীতে স্থাপিত হুমায়ুন রশীদ সেতু দিয়ে সিলেটে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় পৌঁছালে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান। প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে দলীয় নেত্রীকে  উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান তারা।

ঢাকা থেকে সড়ক পথে সিলেটে আসার পথে নেতাকর্মীদের বড় ধরনের শোডাউন দেখা না গেলেও খালেদা জিয়ার গাড়িবহর বিশ্বনাথে এসে পৌঁছলে দৃশ্যপট বদলে যায়। নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর অনুসারীরা বিশ্বনাথে খালেদা জিয়া এসে পৌঁছলে অপেক্ষারত নেতাকর্মীরা শ্লোগানমুখর হয়ে ওঠেন।
এরপর সিলেট শহরের মূল প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে সার্কিট হাউস পর্যন্ত নেতাকর্মীরা রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে অভিবাদন জানান। এ সময় খালেদা জিয়াও নেতাকর্মীদেরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। পাঁচ বছর পর সিলেটে তার এই সফরে জনসভার মত কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিলো না।
সকালে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরুর আগে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার এই সফর শুধুই জিয়ারতের উদ্দেশ্যে, নির্বাচনী প্রচারের জন্য নয়। এক বছর আগে নির্বাচনী প্রচারের কোনো সুযোগ নেই। যেখানে এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি করা হয়নি, সেখানে নির্বাচনী প্রচার কীভাবে হবে? সকাল সোয়া ৯টায় গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে খালেদার গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। খালেদা বসেন গাড়ির সামনে, চালকের পাশের আসনে, যা সচরাচর দেখা যায় না।
এই সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গী ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।
গত ৩১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সিলেটে গিয়ে মাজার জিয়ারত করে জনসভায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে প্রাকনির্বাচনী প্রচার শুরু করেন

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs