সর্বশেষ সংবাদ :

ফেনীতে বাসে আগুন: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন ছাত্রদল নেতা মিলন

Share Button

রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
০২ নভেম্বর ২০১৭। সময়: ১০.১০.PM,

ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর পার হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুইটি বাসে আগুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ছাত্রদল নেতা নূরে সালাম মিলন। তিনি ফেনী সদরের ফাজিলপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি।বুধবার (১ নভেম্বর) রাতে ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।এদিকে, জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহের এবং ছাত্রদল নেতা মিলনের বাবা হাজী এয়ার আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, দুদিন আটক রেখে দফায় দফায় মিলনকে নির্যাতন করা হয়। ক্রসফায়ারের হুমকিও দেওয়া হয়। মিলনকে স্বীকারোত্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়।

মিলনের বাবা দৈনিক মুক্তকন্ঠকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী কারাগারে ছেলেকে দেখতে যাই। এ সময় তার ওপর অমানুষিক নির্যাতনের চিহ্ন দেখে অসুস্থ হয়ে পড়ি।’তিনি বলেন, ‘মিলনকে থানার ভেতরে কয়েক দফা বৈদ্যুতিক শক দেয় পুলিশ। এতে সে কয়েক ঘণ্টা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফেরার পর তাকে প্রাইভেটকারে মহাসড়কের লালপুল ও পাগলা মিঞা সড়ক এলাকায় এনে ক্রসফায়ারের ভয় দেখায়। তার শেষ ইচ্ছাও জানতে চায় পুলিশ।’জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহের দৈনিক মুক্তকন্ঠকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর মহিপাল অতিক্রম করার সময় ছাত্র নেতা মিলন মোটরসাইকেল বহরে ছিল। বাসে আগুনের দৃশ্য দেখে সে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আগুন নেভায়। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সে এ প্রসঙ্গে বক্তব্যও দেয়। এই সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য স্থান জুড়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ মিলনকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটক করে থানায় অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পুলিশকে এই কাজে প্ররোচিত করে ফাজিলপুর ইউপির চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুল হক রিপন। একইসঙ্গে মিলনকে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে।’অ্যাডভোকেট আবু তাহের বলেন, ‘বাসে আগুন ও গাড়িবহরে হামলার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছে পুলিশ। একইসঙ্গে এই ঘটনায় মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছে।’এদিকে, এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাজিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হক রিপন।এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদ খান চৌধুরী বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে অভিযোগকারীরা এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে।’ওসি বলেন, ‘ঘটনাটি কারা, কেন করেছে তা আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে ১৯ জনকে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs