সর্বশেষ সংবাদ :

মুক্তিযোদ্ধা সনদ নকলে ধরা খেয়ে দুই সচিব চাকরি ছাড়লেন

Share Button
19223_bji
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০১৪।
মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করে চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর কারণে স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া ও আরেক সচিব একেএম আমির হোসেন স্বেচ্ছা অবসরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আমির হোসেন সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব ছিলেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য সচিব মো. নিয়াজ উদ্দিন মিয়ার স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার চিঠি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। আর আমির হোসেনের চিঠি পৌঁছে দুপুরের দিকে। এই দুই সচিবের স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে ইনকিলাবকে জানান, মো. নিয়াজ উদ্দিন মিয়া এবং একেএম আমির হোসেনকে পদত্যাগ করতে বা স্বেচ্ছা অবসরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। একই অভিযোগে সনদ বাতিল হওয়া অন্য দু’জনের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী গত ৩১ অক্টোবর অবসরে গেছেন। আর একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার বর্তমানে ওএসডি হিসেবে রয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সচিব আমির হোসেন চিঠিতে লিখেছেন, ‘আমি ২৫ বছর চাকরি করেছি। এখন অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি।’ আর স্বাস্থ্য সচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। আর সে কারণেই স্বেচ্ছা অবসরে যেতে যান। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে চিঠি দেয়া হলে তা চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং তা পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়া যাবে না।
গতকালই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দুই সচিবের চিঠির সারসংক্ষেপ তৈরি করা হয়। ফাইল দুটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এরপর তা প্র্রেসিডেন্টের কাছ থেকে অনুমোদন হয়ে আসবে। সূত্র মতে, স্বাস্থ্য সচিব মো. নিয়াজ উদ্দিন মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করে চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এমন গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও মো. নিয়াজ উদ্দিন মিয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে অসদাচরণের অপরাধ করেছেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় তার সনদ বাতিল করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। গত সপ্তাহে তারা দু’জন চিঠির জবাব দেন।
মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. নিয়াজ উদ্দিন মিয়াসহ তিন সচিব ও এক যুগ্ম সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশে গত ২২ সেপ্টেম্বর গেজেট বাতিল করে মন্ত্রণালয়। জামুকার বৈঠকে সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হওয়ার নয় দিন পর মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs