সর্বশেষ সংবাদ :

সিলমারা ব্যালট বই দেখেই চলে গেলেন ম্যাজিস্ট্রেট

Share Button

news-image

রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭। সময়: ০১.২০.PM,

কসবার খাড়েরা ইউনিয়নের সোনারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। ৪নং বুথ। বেলা ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেন ঢুকেন সেখানে। বসে থাকা এজেন্টদের সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ চোটপাট করেন। এরপর বেরিয়ে আসেন। তিনি বেরিয়ে আসার পর ওই বুথে ঢুকে সাংবাদিকরা দেখতে পান সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের টেবিলে নৌকা প্রতীকে সিল মারা চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট বই। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যালট বইটি দেখাতে ডেকে ভেতরে আনা হয়। তিনি এসে প্রিজাইডিং অফিসার কই, ডাকেন তারে বলে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে বেরিয়ে যান বুথ থেকে। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান জানান- ব্যালটে মনির নামের একজন সিল মেরেছে। সে নিরুপায়। জানা গেছে- পুরো ব্যালট বইয়ে আগেই সিল মেরে রাখা হয়। স্থানীয় ছাত্রলীগ সভাপতি মনির মোট ২শ’ ব্যালট পেপারে সিল মারেন। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এসব ভোট বাতিল করা হবে বলে জানান। খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের গতকাল ছিল সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু ভোটাররা ভোট দিতে পেরেছেন শুধু সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের।

চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালটে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে ৯টার মধ্যে বাকস ভরা হয়। প্রায় সব কেন্দ্রে ভোটারদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে এই অভিযোগ। খাড়েরা মোহাম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২ নম্বর বুথে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্টকে ভোটারদের কাছ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে নিজেই সিল মারতে দেখা গেছে। দেলী-পাতাইসার কেন্দ্রে ৯টার মধ্যে ভোট দেয়া শেষ হয়ে যায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর। মামলার কারণে ১ বছর তিন মাস পিছিয়ে গতকাল খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট চলাকালে কেন্দ্রগুলোতে ছিল বহিরাগতদের ভিড়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই মোটরসাইকেল চলেছে অবাধে।

কেন্দ্রের ভেতরে চোখে পড়ে সিল মারার দৃশ্য। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেনের সঙ্গে সোনারগাঁও কেন্দ্রে যখন কথা হয় তখন তিনি দাবি করেন নির্বাচনী পরিবেশের কোথাও কোনো ব্যত্যয় হয়নি। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ৭ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীরা হচ্ছেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কবির আহাম্মদ খান (নৌকা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মো. মিজানুর রহমান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র ২জন আবুল কালাম (আনারস) ও ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ (ঘোড়া)। নির্বাচনে ৯টি ভোট কেন্দ্রে ৪২টি ভোটকক্ষ ও ৩টি অস্থায়ী ভোট কক্ষে ভোট দেন ভোটাররা। মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৮৯ জন।

সুত্রঃঃ মানবজমিন

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs