সর্বশেষ সংবাদ :

ভারতের সমস্যায় অন্ধকারে বাংলাদেশের জনগন

Share Button

141028115416_national_grid_640x360_bbc_nocredit

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ২ নভেম্বর ২০১৪।

ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়ায় অন্ধকারে রয়েছে সারা বাংলাদেশ। বাংলামেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (পিডিবি) গণসংযোগ সেলের পরিচালক সাইফুল ইসলাম।

সাইফুল ইসলাম বাংলামেইলকে বলেন, ‘ভারত থেকে আনা বিদ্যুৎ সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়ায় সারাদেশ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে দেশের পাওয়ার স্টেশনগুলো একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ চালু করতে গেলে একটা একটা করে স্টেশন চালু করতে হবে। এর সমাধানে দ্রুত কাজ চলছে। ইতিমধ্যে কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়ে গেছে।’

তিনি আরো জানান, এখন সিলেট অঞ্চলের কাজ চলছে। এরপর ময়মনসিংহ অঞ্চলের কাজ শুরু হবে। আশা করা যাচ্ছে বিকেলের মধ্যেই তা ঠিক হয়ে যাবে।

বাংলামেইলকে একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

তিনি জানান, ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ন্যাশনাল গ্রিড অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে আশুগঞ্জের ৬টি কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। বিকেল ৫টা নাগাদ তা স্বাভাবিক হতে পারে।

জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বহরমপুর সাবস্টেশন থেকে আমদানি করা ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সাবস্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ করা হয় জাতীয় গ্রিডে। ভারতের সাবস্টেশনে থেকে আসা দুটির একটা লাইন ‘বসে’ (টিপ) যাওয়ার কারণেই বাংলাদেশে সমস্যা দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্রিডে একটা লাইন থেকে সারা দেশে সরবরাহ করা হয় বলেই একটা আমদানি লাইনের সমস্যা পুরো সিস্টেমেই প্রভাব ফেলেছে। তবে এতে ভারতে কোনো সমস্যা হয়নি।

এদিকে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের সরকারি খাত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ দেশের জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন শুরু হয়। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা গ্রিড উপকেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসে। পরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ আমদানি পাঁচশ’ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। পরে এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে ২৫ বছরের চুক্তি হয়।

এই আমদানি চুক্তি কার্যকরী করতে বাংলাদেশের ভেড়ামারা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরে সুইচ স্টেশন স্থাপন করা হয়। একইসাথে দুই দেশের জাতীয় গ্রিড লাইনের সংযোগের জন্য বসানো হয় ৯৮ কি.মি. সঞ্চালন লাইন।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs