সর্বশেষ সংবাদ :

আপাতত মন্ত্রীই থাকছেন লতিফ সিদ্দিকী

Share Button

93120_1

রিপোর্টারঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম,ঢাকা
০২ অক্টোবর ২০১৪

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী জনিয়েছেন, হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের জন্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। হজ পালন শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশে ফিরলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর গোজাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গরিব-দুঃস্থদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্য লতিফ সিদ্দিকী বিদেশে যে আপত্তিকর কথা বলেছেন, এটা কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক লোকের কথা নয়। এর দায়দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বহন করবে না। আমাদের নেত্রী আমাদের চেয়ে অনেক বেশি পরহেজগার। তিনি সঙ্গে সঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন।লতিফ সিদ্দিকী আর আগের মতো মন্ত্রিসভার সদস্য নন।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপতি হজে গেছেন। তিনি এলে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাকীর হোসেন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিয়াউল হক মাস্টার, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদউল্লাহ তালুকদার মুকুল, উপজেলা প্রতিরোধ যোদ্ধা সভাপতি ফজলুর রহমান ফজল প্রমুখ।

গত রোববার নিউ ইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে এক অনুষ্ঠানে হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের পর থেকে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বিভিন্ন মহল। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া ও গ্রেফতারের দাবি জানান বিভিন্ন দল, সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ ডজন মামলা দায়ের করা হয়েছে।

লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সমালোচনার তোলপাড়ের মুখে বুধবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জেনেছেন মন্ত্রিসভা থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ।

নিউইয়র্ক থেকে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত রোববার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে হজ, তাবলিগ জামাত, মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয় ও সাংবাদিকদের নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন।

ওই অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তার চেয়ে বেশি হজ ও তবলিগ জামাতবিরোধী। এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।

হজ কীভাবে এসেছে এর ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করল যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসাথে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।

তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাবলিগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।

লতিফ সিদ্দিকীর এ বক্তব্যের পর সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষা্ত্কারে লতিফ সিদ্দিকী তার বক্তব্য প্রত্যাহারে অস্বীকার এবং এ জন্য তার কোনো অনুতাপ নেই বলে জানান।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs