সর্বশেষ সংবাদ :

জেএমবির টার্গেটে চার মন্ত্রীসহ ভিআইপিরা

Share Button

10675657_563895457043661_4517689277931027757_n

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১ নভেম্বর ২০১৪।

চার মন্ত্রীসহ ভিআইপিদের ওপর হামলার টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছিল জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এজন্য তারা তৈরি করেছিল একটি পরিকল্পনাও। এটি বাস্তবায়নে সংগ্রহ করেছে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক। সংগ্রহ করেছিল বিশেষ পদ্ধতির টাইম ডিলে মেকানিজম বোমা। টার্গেট করা মন্ত্রীদের যাতায়াতের রুটও ছিল জেএমবির হাতে। শুক্রবার ভোরে সিরাজগঞ্জের শহীদ মনসুর আলী রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার হওয়া জেএমবির প্রধান সমন্বয়ক আবদুুুন নূরসহ ৫ জঙ্গি র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছে।
আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির প্রধান সমন্বয়ক আবদুন নূরের এক সিনিয়র সহকর্মী তারেক পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার সঙ্গে জড়িত বলেও জানিয়েছে একটি গোয়েন্দা সূত্র। বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে আবদুন নূরকে ভারতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এই তারেক। কিন্তু ব্যবসায়িক কারণে ভারতে যেতে রাজি হননি আবদুুন নূর।
র‌্যাব জানায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতার কারণে জেএমবি তাদের সরঞ্জামগুলো আইনশৃংখলা বাহিনীর কম তৎপরতাপূর্ণ এলাকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই তাদের অনুসরণ করছিল র‌্যাব। গোয়েন্দারা জানতে পারেন জেএমবির প্রধান সমন্বয়ক মো. আবদুুন নূর (৩১) বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রেনে জয়দেবপুরের দিকে যাবে। তারা জয়দেবপুর পর্যন্ত টিকিট করলেও কৌশল হিসেবে নেমে যায় সিরাজগঞ্জে। শুক্রবার ভোরে সিরাজগঞ্জের শহীদ মুনসুর আলী রেলস্টেশন থেকে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানে মো. আবদুুন নূর, জেএমবির এহসার সদস্য নূর ইসলাম ও মো. নুরুজ্জামান আরিফ, গায়েরে এহসার সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ ও ফারুক আহম্মেদকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪টি শক্তিশালী টাইম বোমা, ৪৯টি প্রাইমারি ডেটোনেটর, ২৬টি ইলেকট্রনিক ডেটোনেটর, ৩৫ গজ কর্ডেক্স, ১০ কেজি পাওয়ার জেল, ১৫৫টি বিভিন্ন প্রকার সার্কিট, ৫৫টি জিহাদি বই, ৪৫টি বোতাম টাইপ সার্কিট, ৩টি ইগনাইটর ও ১টি পাওয়ার রেগুলেটর উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক হওয়া জেএমবি সদস্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে জানা যায়, আবদুুুন নূর মূলত বাংলাদেশে অবস্থান করে আত্মগোপনে থাকা জেএমবির প্রধান আমীর সোহেল মাহফুজের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত। চাঁপাইনবাগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও সে দেশের বিভিন্ন জেলা সফর করত। জেএমবিকে পুনরায় সংগঠিত করার জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাত। এ লক্ষ্যে জেলখানায় অবস্থানরত জেএমবি শীর্ষ নেতা ও দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকা জেএমবির সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখত আবদুন নূর।
জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবি সদস্যরা আরও জানায়, বাংলাদেশে যে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নাশকতা করার পরিকল্পনা করেছিল তারা। এর মাধ্যমে জেএমবি সাংগঠনিকভাবে যে সক্রিয় হয়েছে তা জানান দেয়াই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। আটককৃতদের কাছ থেকে যেসব বোমা উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো খুবই শক্তিশালী ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। বোমাগুলো তৈরিতে ডিলেটাইম মেকানিজম ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো দিয়ে সাবেক ও বর্তমান চার মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন ভিআইপিকে হত্যার পরিকল্পনাও করে তারা।
মন্ত্রী ও ভিআইপিদের নাম প্রকাশ করেনি র‌্যাব। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, সাবেক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দকী জেএমবির টার্গেটে রয়েছেন। এছাড়াও ইসলাম এবং ধর্মীয় আকিদা নিয়ে যারাই কথা বলবে তাদের টার্গেট করেছে জেএমবি।
আবদুন নূর সম্পর্কে র‌্যাব জানায়, তার বাবার নাম আবদুস সাত্তার মাস্টার। গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের শিবনগর জাইগীর গ্রামে। সে কানসার্ট আলিয়া মাদ্রাসায় ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সে সুন্দরবন থেকে মধু কিনে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করত। তার নামে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, মোকসেদপুর এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় ৬টি ডাকাতি মামলা আছে। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানায় ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে সে ৬ বছর জেল খাটে। জেলে থাকাবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের তরিকুল ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মাসুমের (৪৫) সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের মাধ্যমেই জেএমবিতে যোগ দেয় আবদুন নূর। জেলে থাকাবস্থায় তরিকুল জেএমবির অপর সদস্য মর্তূজা সঙ্গে আবদুন নূরকে কাজ করতে দিক-নির্দেশনা দেয়।
২০১০ সালের শেষের দিকে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে নূর কিছুদিন নারায়ণগঞ্জে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। পরে নিজ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় গিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসার পাশাপাশি তরিকুলের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী জেএমবির নেতা মর্তূজা ও সক্রিয় সদস্য রবিউল, মিজান ও হারিছের সঙ্গে জেএমবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দফায় দফায় গোপন বৈঠক করে।
জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পর জেএমবি নেতা তরিকুলও জেল থেকে মুক্তি পায় এবং সংগঠনের কাজে আরও বেশি সক্রিয় হয়। ওই সময় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তরিকুলকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালায়। অভিযানের খবর পেয়ে সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয় সে। এ তরিকুলের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিস্ফোরণের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে স্পর্শকাতর হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি র‌্যাব।
জিজ্ঞাসাবাদে নূর আরও জানায়, জেএমবির অন্যতম দুটি গ্রুপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইছাবা গ্রুপ ও অপরটি দায়ী গ্রুপ। ইছাবা গ্রুপের কাজ হচ্ছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সংগ্রহ এবং সংরক্ষণসহ ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সংঘটিত করা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ গ্রুপের অন্যতম নেতা হচ্ছে মর্তূজা ও সক্রিয় সদস্য মিজান। দায়ী গ্রুপের কাজ হচ্ছে দাওয়াতের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করে সংগঠনকে আরও বেশি সংগঠিত করা। এ সংগঠনের সাধারণ সদস্য ও সমর্থক এই দায়ী গ্র“পের কাজ করে।
ব্যবসার কাজের জন্য সংগঠনের কাজে সময় কম দেয়ায় ভারত থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তরিকুল তাকে কঠোর ভাষায় তাগিদ দিত। পরবর্তী সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জেএমবির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য তরিকুল ভারত থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপর জেএমবি সদস্য আবদুল আলীমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়। আবদুন নূর প্রতিমাসে সংগঠনকে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দিত। সংগঠনের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করে মতূর্জাসহ মিজান, রবিউল, হারিছ ও জেএমবির অন্যান্য নেতা এবং সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে এই সংগঠনের কর্মকাণ্ডে আলাপ-আলোচনা করে বিভিন্ন ধরনের নাশকতার পরিকল্পার করতে থাকে।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখে ভারতে পালিয়ে থাকা জেএমবি নেতা তরিকুল। অপরদিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে কমান্ডো স্টাইলে হামলা চালিয়ে মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাহউদ্দিন সালেহীনকে মুক্ত করার পর জেএমবি সদস্যদের মনোবল বেড়ে যায়। সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি সংগ্রহের মাধ্যমে ইরানের মতো সারা দেশের জেলা ও থানায় হামলা চালিয়ে ইসলামী শাসন চালু করবে।
আবদুন নূর আরও জানিয়েছে, এহসার আশরাফ ও এহসার নওগাঁর মাসুমের কাছে শুনেছে এক মামা আছে খুব ভালো লোক, জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তি। এই মামা জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের কোনো নেতা, যাকে তিনি কোনো দিন দেখেননি। তরিকুল মোবাইল ফোনে আবদুন নূরকে সংগঠনের কাজে আরও বেশি সময় দেয়ার জন্য ভারতে যাওয়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু সে যেতে রাজি হয়নি।
জেএমবি সদস্য মো. নুরুজ্জামান আরিফের বাবার নাম আবু তালেব (৬৫)। গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার গোবিন্দনগর মুন্সীর হাটে। সে ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির ধানমণ্ডি শাখার বিএসসি ইন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। ২০১৪ সালে রোজার সময় জেএমবি সদস্য নাঈমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাইম পরিচয় করিয়ে দেয় অপর জেএমবি নেতা তাসনিমের সঙ্গে। তাসনিমই নূরুজ্জামান আরিফকে গায়রে এহসার পদ দেয়। জেএমবির সদস্য ফুয়াদ, হায়দার, ওমর, নাঈম ও রোজী নিয়মিত তাকে ফোন করে জেএমবির অন্য সদস্যদের অবস্থান জানত। তাসনিম গ্রেফতার হওয়ার খবর সে পত্রিকা থেকে জানতে পারে। পরে জানতে পারে তাসনিম জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমীর। তাসনিম গ্রেফতার হওয়ার পড় জেএমবির অন্য সদস্যরা তাকে ফোন করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ করতে বলে। কিন্তু তার মোবাইল ফোনটি ব্যবসায়িক হওয়ায় সে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করেনি।
আটক হওয়া জেএমবি সদস্য মো. নুর ইসলাম ওরফে সাগরের বাবার নাম মো. জয়নাল আবেদীন। গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শত গ্রামে। ২০১৪ সালের প্রথম দিকে ঝাড়বাড়ী বাজারে একটি কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনের দোকানে জসিম উদ্দিন রাহমানি নামের এক মাওলানার ওয়াজ মোবাইল ফোনে লোড নেয়। সেই ওয়াজ শোনার পর থেকেই সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় যে, জেএমবির দলে যোগ দেবে। পরে ২০১৪ সালের প্রথম দিকে দিনাজপুর রানীরবন্দরে আদিলুর নামের এক জেএমবি নেতার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই ব্যক্তির বিভিন্ন জিহাদি বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সে জেএমবিতে যোগ দেয়। জেএমবিকে সে মাসে ৫০ টাকা হারে চাঁদা দিত। তার সঙ্গে লুৎফর রহমান, মজিদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, আছর আলী নামের আরও ৪ জন ব্যক্তি জেএমবিতে যোগ দিয়েছে। আদিলুর ঝাড়বাড়ীর অপর জেএমবি সদস্য মজিদুলের বাড়িতে ট্রেনিং দিত।
জেএমবি সদস্য আবুল কালাম আজাদের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাররশিয়ায়। সে সঙ্করবাটি হিফজুল উলুম ফায়জা খানম মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০০৩ সালে জেএমবিতে যোগ দেয়। পরে তিতুমীর বাঘমারা জেএমবির তৎকালীন সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইয়ের কাছে গিয়ে জঙ্গি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয় এবং জেএমবির নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে। সে ২০১০ সালে ঢাকায় আসে। ঢাকা মোহাম্মদপুর হিলফুল ফুজল এনজিওতে ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাকরি নেয়। সেখানে চাকরি করা অবস্থায় মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে আহলে হাদিস মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়ত। সেখান থেকে পরিচিত কয়েক জনের সঙ্গে আলাপ করে মোহাম্মদপুরের বছিলা রোডে মুফতি জসীম উদ্দিন রহমানির ওয়াজ শোনার জন্য সে মসজিদে নামজ পড়ার জন্য যায়। এরপর থেকে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মুফতি জসীম উদ্দিনের কাছে যেত। তার সঙ্গে জেএমবি নেতা নাঈমের পরিচয় ছিল।
জেএমবি সদস্য ফারুক আহম্মেদের বাবার নাম মো. আবুল হাশেম। গ্রামের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার নাজিরপুরে। সে ২০১৩ সালে জেএমবি সদস্য আবু জহরের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগ দেয়। আবু জহর খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দুসহ বিভিন্ন বিধর্মীদের বিরুদ্ধে জিহাদ গড়ে তোলার পরামর্শ প্রদান করে। আবু জহর অন্যান্য জেএমবি সদস্যদের নিয়ে মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে জিহাদের বিষয়ে আলোচনা করত এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে জিহাদের দাওয়াত দিত।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs