সর্বশেষ সংবাদ :

ঈদে ঘরে ফেরা: দেশের ১৬ পয়েন্টে নৌ-পুলিশ

Share Button
1412266243
রিপোর্টারঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম,ঢাকা
০২ অক্টোবর ২০১৪
নৌ-পুলিশ ইউনিট গঠনের পর সীমিত জনবল নিয়ে ঈদুল ফিতরের সময় কাজ শুরু করেছিল। এর আড়াই মাসে মাথায় ঈদ উল আযহা ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘরে ফেরা মানুষের নিরাপত্তায় পুর্নদমে কাজ শুরু করেছে নৌ পুলিশ ইউনিট। দেশের বিভিন্ন নৌপথ এলাকাতে তিনটি সেক্টরে ভাগ করে ১৬টি গুরুত্বপুর্ন পয়েন্টে সর্তক অবস্থানে রাখা হয়েছে নৌ পুলিশ সদস্যদের। এসব পয়েন্টে কানিট্র বোট ও স্প্রীড বোটের পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ থেকে প্রাপ্ত ১৭টি জাহাজ , ওয়ার্ক বোট ও ১৬টি স্প্রীডবোট। নৌ পথে নিরাপত্ত রাখতে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর গঠন করা হয় বাংলাদেশ পুলিশের নতুন ইউনিট হিসেবে গঠিত হয় নৌ পুলিশ। বর্তমানে সারাদেশে  ৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে।
নৌ-পুলিশের মুখপাত্র পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান বলেন, ঈদ ও পূজায় ঘরে ফেরা মানুষ যেন নৌপথে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে এ জন্যই নৌ পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এ জন্য দায়িত্বপালনকারী অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয় এবং মনিটরিংয়ের জন্য তিনটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। সেক্টরগুলো হচ্ছে সেক্টর-১ দক্ষিণ বিভাগ (চাঁদপুর, নোয়াখালী, বরিশাল ও পটুয়াখালী), সেক্টর-২ পূর্ব বিভাগ (ব্রাহ্মনবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ), সেক্টর-৩ পশ্চিম বিভাগ(ফরিদপুর, মাওয়া, পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া, কাওরাকান্দি, মাঝিরঘাট,  বাগেরহাট ও খুলনা), এ ছাড়া বিশেষ ডিউটি-সদরঘাট, ডিএমপি ও ঢাকা জেলায়।
তিনি বলেন, প্রতিটি বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। মোতায়েনকৃত অফিসার ও ফোর্সদের মুল কাজ হলো-মেট্রো পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসিসহ অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে নৌ যান, নৌ যাত্রী ও মালামালের নিরাপত্তা দেওয়া, নৌ যান ও যাত্রীর চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করা। রেকর্ডকৃত সচেনতামুলক নির্দেশাবলী নৌ পুলিশের কন্ট্রোলরুম ও লঞ্চে বহুল প্রচারের ব্যবস্থা করা। অজ্ঞান/মলম পার্টি সম্পর্কে যাত্রীদের সচেতনতা করার লক্ষ্যে মাইকিং করা, ট্র্যাক স্যুট পরিহিত নৌ পুলিশের সদস্যগণ, যাত্রীদের, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যাক্তি এবং যাহারা সহায়তা চায় তাদেরকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করা।  নৌ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনের স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত যাত্রী/মালামাল বা লঞ্চের ছাদে বা ডেকে যাত্রী পরিবহন রোধ করা, নৌ পথে ডাকাতি, ছিনতাই প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া, নৌপথে কোরবানির পশু পরিবহনে কোন ধরনের অসুবিধার সৃষ্টি না হয় এবং চামড়া যাতে পাচার না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া।  রাতের বেলায় বালুবাহী নৌযান ও ওয়েল ট্যাংকার যাতে চলতে না পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া, টিকিট কালোবাজারী এবং যাত্রী হয়রানী, কুলিদের মাল টানাটানি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া । আর গোটা বিষয়টি তদারকি করবেন নৌ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
নৌ পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, নৌ যাত্রাকে নিরাপদ রাখতে  ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশনা জানানো হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে মালিকদেরকে অবৈধ বা ফিটনেসবিহীন নৌযান নৌপথে চালনা না করা, অতিরিক্ত যাত্রী ও ছাদের উপর যাত্রী না নেয়া। পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতনতার জন্য প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এতে  যাত্রীগণকে অপরিচিত কারো নিকট থেকে কিছু না খাওয়া, অতিরিক্ত যাত্রী হিসাবে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নৌ পথে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রত্যয়ে নৌ-পুলিশ। এ জন্য নৌপথ বা নৌযান সংক্রান্ত কোন তথ্য  দেয়া বা অভিযোগের জন্য নৌ পুলিশের কন্ট্রোল রুম এর ০১৭৬৯৬৯০৮০০ নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs