সর্বশেষ সংবাদ :

বিএনপির টার্গেট ডিসেম্বর

Share Button

রিপোর্টারঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম,ঢাক

০২ অক্টোবর ২০১৪93108_1

ডিসেম্বরের মধ্যে আন্দোলন সফল করার জন্য কাজ করছে বিএনপি। ঈদ উল আযহার পরও বিএনপির কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী নেই। তা না থাকলেও তারা ডিসেম্বরে আন্দোলন সফল করার জন্য সকল জেলায় সরকার বিরোধি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩৭ টি কমিটি করে ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা সফর করবে। এদিকে বিএনপি কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার জন্য যে জন সমর্থন প্রয়োজন, সেই সমর্থন বিএনপির এখনও নেই। জন সমর্থণ আন্দোলনের পক্ষে না থাকার কারণে তারা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার কথা ঈদ উল ফিতরের পর ঘোষণা করলেও যেতে পারেনি। এখনও পারছে না। মাঝখানে তারা বেশ কয়েকটি ইস্যু ধরে আন্দোলনের প্রাক প্রস্তুতি হিসাবে জনসমাবেশ করে। কিন্তু তাতে তেমন সারা মিলেনি।
বিএনপির সূত্র জানায়, সম্প্রতি ব্রাক্ষনবাড়িয়া ও জামালপুরের দুটি জন সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বক্তৃতা করে। ওই জন সমাবেশে বিপুল সংখ্যক লোকের সমাগম হয়। বৃষ্টি উপক্ষো করে জনমানুষের ঢল নামার কারণে এখন বিএনপি কঠোর আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তন করেছে। সেটা করেই তারা এখন জন সমাবেশ আরো বেশি সংখ্যক করার উদ্যোগ নিয়েছে। তারা মনে করছে সমাবেশ করে তারা সরকারের বিরুদ্ধে জনগনের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারবেন। সেটা করতে পারলেই আন্দোলন জমে উঠবে। জনগণও নতুন করে নির্বাচন চাইবে। মাঠে নেমে আসবে।
সূত্র জানায়, বিএনপির পরিকল্পনা হচ্ছে, ঈদ পরবর্তী আন্দোলনকে সফল করার জন্য দেশব্যাপী গণসংযোগ করা। এতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতারাও অংশ নিবেন। এই বছরের ডিসেম্বরে সরকার পতন, আগাম নির্বাচন ও নিরপক্ষে সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করবেন। সেই আন্দোলনে যাতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ অংশ নেয় সেই জন্য গণসংযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দল। তারা মনে করছে জনগণের সমর্থণ পেলে বিএনপি এর পর কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী দিবে। আন্দোলনের জন্য ও জন সচেতনতা তৈরি করার জন্য বিএনপি ও জোটের শরিক দলগুলো বিভিন্ন ইস্যুকে তুলে ধরবেন। যাতে করে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। এই কারণে বিভিন্ন সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, অপহরণ, গুম, হত্যাকাণ্ড, বিএনপি ও বিএনপি জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা,নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। দেশের মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তি নিয়ে কথা বলবেন।
বিএনপির সূত্র জানায়, ঈদের পর বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতারা দেশব্যাপী ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা সফর করবেন। বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, থানা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহরসহ তৃণমূলে সভা-সমাবেশ করবেন। সেখানে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরবেন। সেই সঙ্গে তারা সাধারন মানুষের কাছেও সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিবেন। যাতে করে সরকারের বিরুদ্ধে জনগনের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনে নেই এটা কেউ কেউ বলার চেষ্টা করে। এটা ঠিক না আমাদের আন্দোলন চলছে। চলবে। আমরা জনগণের অধিকার, মৌলিক অধিকার, মানুষের ভোট দানের অধিকার ও সাধমানুষের নিরাপত্তার জন্য ধীরে ধীরে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো। ঈদের পরে সারাদেশে গণসংযোগ করা হবে। কঠোর আন্দোলনের কথা বলা হলেও তেমন কোন কর্মসূচী কিনে দিতে পারছে না বিএনপি জানতে চাইলে বলেন, সময় মতো সব কর্মসূচী দেয়া হবে। সময়টা কবে হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ভাবে সময় বেঁেধ হবে না। জনগণ তৈরি হলেও আমরা কঠোর কর্মসূচী দিবো। আমাদের প্রস্তুতিও রয়েছে।
সূত্র জানায়, শান্তিপূর্ন আন্দোলনের মাধ্যমে ডিসেম্বরে সরকার পতনের আন্দোলন ও গণসংযোগ সফল করার জন্য বিভিন্ন জেলায় নেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশব্যাপী জন সমাবেশ সফল করার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলার নেতারা কাজও শুরু করেছেন।
এদিকে সূত্র জানায়, সারাদেশে সভা সমাবেশ করার জন্য ২০ দলীয় জোটের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আহ্বায়ক করে সারাদেশে ৩৭টি আহ্বায়ক করা হবে। এটা ঈদের পর পরই করা হবে। ৩৭ টি কমিটিকে সারাদেশে ৭৫ সাংগঠনিক জেলা সফর করবেন ও সমাবেশের আয়োজন করবেন। এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হবে তাদেরকে । তারা এই সময়ের মধ্যে সমাবেশের জন্য কাজ করবেন। বিভিন্ন জন সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করবেন। বিএনপির সূত্র জানায়, এর আগে ঢাকার বাইরে বিএনপির বিভিন্ন জেলা কমিটি ও জেলায় থানা পর্যায়ে আন্দোলন সফল হলেও ঢাকায় তা ছিল না। ঢাকার নেতারা মাঠেই নামেননি। ঢাকার নেতাদের ব্যর্থতার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার নেতারা হতাশ হয়ে পড়েন। আর সেটা হওয়ার কারণে ঢাকার বাইরের নেতারা মাঠে নামতে আগ্রহী নন। তারা মনে করেন, তারা কেবল কাজ করবেন আর ঢাকার নেতারা বসে থাকবেন সুবিধা নিবেন সেটা হবে না। এই কারণে অনেক নেতা আন্দোলন থেকেও পিছিয়ে পড়েন। এই অবস্থায় এখন নতুন করে আবার ঢাকার বাইরের বিভিন্ন নেতাদের উজ্জীবিত করার জন্য ও আন্দোলনের জন্য তাদেরকে তৈরি করার জন্য এই সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। নেতাদের বলা হয়েছে, তারা এক মাসের মধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলাগুলো সফর করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করবেন। এই জন্য কাজ করবেন। ডিসেম্বরের আগেই সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করা যায়।
এদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি এখনও আন্দোলন করছে। এই আন্দোলন সরকার টের পাচ্ছে না। এক সময়ে টের পাবে। জনগণের ভোটের অধিকার ও দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেশে যে আন্দোলন চলছে, সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে দেশব্যাপী বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। এই কারণেই ঈদের পর দলের সিনিয়র নেতারা দেশের বিভিন্ন জেলা সফর করবেন এবং গণসংযোগ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs