সর্বশেষ সংবাদ :

খালেদা আগমনেও ঘুম ভাঙছে না নেতাকর্মীদের

Share Button

10711028_726974657358494_8264422684957650404_n

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম,
২২ অক্টোবর ২০১৪।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার নীলফামারীতে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় যোগ দিতে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জনসভাকে ঘিরে এরই মধ্যে সবধরণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। থেমে নেই প্রচার প্রচারণাও।

দলীয় প্রধানের আগমনে পুরো উত্তরাঞ্চলে যখন সাজ সাজ রব, তখন রংপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বিকার। অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই খালেদা জিয়া রংপুর হয়েই যাবেন নীলফামারীর জনসভায়। ভাব এমনটাই যেন, খালে

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নতুন কমিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়ানো জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন ভেতরে ভেতরে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। নেই আগের মতো ঐক্যবদ্ধ দলীয় কার্যক্রম।

একারণেই দু’ভাগে বিভক্ত বিএনপি নেতাদের মধ্যে তাই নেই নেত্রীর আগমন ঘিরে কোনো ধরণের প্রস্তুতি। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই ঘুমিয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা। নীলফামারীতে নেত্রীর জনসভাকে ঘিরে তাই রংপুরে নেই কোনো প্রচার প্রচারণা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নেতাদের কোনো যোগাযোগ নেই। নগরীর কোথাও চোখে পড়েনি জনসভার সমর্থনে মিছিল কিংবা সমাবেশ।

তবে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে গত মঙ্গলবার ২০ দলীয় জোটের শরীক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের আগমন ঘিরে। তার জনসভা সফল করতে জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের মিছিল ও সমাবেশ ছিল চোখে পড়ার মতো।

সরেজমিনে নগরীর বেশ কিছু এলাকায় নেত্রীর জনসভা সফল করতে পোস্টার ফেস্টুন চোখে পড়লেও কানে আসেনি মাইকিং। কোথাও দেখা যায়নি গণসংযোগ করতে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান সামু সব অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমরা ঘুমিয়ে পড়িনি। প্রচারণা চলছে, পোস্টারিংও করা হয়েছে। ওয়ার্ড নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সবার কাছেই মুভ করা হয়েছে।’

শামসুজ্জামান সামু আরো বলেন, ‘নীলফামারীতে ম্যাডামের আগমন ও জনসভা উপলক্ষ্যে রংপুরে মর্ডান এলাকা থেকে হাজিরহাট পর্যন্ত ২৩টি তোরণ তৈরি করা হচ্ছে। জনসভা সফল করতে মিছিল করা হবে।’

তিনি আরো জানান, সভায় প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে দুটি গাড়ি এবং থানা ও উপজেলা থেকে ৫টি করে গাড়ি যাবে। প্রায় বিশ হাজার নেতাকর্মী নেত্রীর জনসভায় অংশ নেবেন।

একই রকম দাবি করে নতুন কমিটির প্রত্যাশিত পদবঞ্চিত নেতা রইচ আহমেদ দৈনিক মুক্তকন্ঠকে বলেন, ‘ম্যাডামের জনসভা সফল করতে আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।

জনসভাকে ঘিরে প্রকাশ্যে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না এ বিষয়ে জানতে চাইলে রইচ আহমেদ বলেন, ‘দলে কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় আমরা আলাদা আলাদা করেই যাবো। ইতোমধ্যে সবধরণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।’

রংপুর থেকে বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, ওলামা দল, মহিলা দলসহ সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা নেত্রীর জনসভায় অংশ নেবে।

দ্বিধাবিভক্ত রংপুর মহানগরের নতুন কমিটির পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত নেতারা দাবি করলেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো সাড়া দেখা যায়নি। আলাদাভাবে নেত্রীর জনসভায় যোগ দেয়ার প্রস্তুতিতে তারা অনেকেই ক্ষুব্ধ। তৃণমূল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবেই নেত্রীকে বরণ করতে চায়। কিন্তু সে পরিস্থিতি না থাকায় হতাশা দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে।

উল্লেখ্য, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নীলফামারী বড় ময়দানে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

দার আগমনেও ঘুম ভাঙছে না তাদের।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs