সর্বশেষ সংবাদ :

ছাত্রদল নিয়ে চটেছেন খালেদা জিয়া

Share Button
khaleda-p2_141731
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০১৪
ছাত্রদলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে বেজায় চটেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে একহাত নিয়েছেন তিনি। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গত রবিবার রাতে নেতারা দেখা করতে গেলে খালেদা জিয়ার ক্ষোভের সামনে পড়েন। ফখরুলের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দ্রুত সংকট নিরসনের নির্দেশ দেন। তাঁর ওই নির্দেশের পর গতকাল সোমবার দফায় দফায় বৈঠক করেন নেতারা।
পদবঞ্চিতদের বিদ্রোহ দমনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মির্জা আব্বাস গতকাল দুপুরে তাঁর শাহজাহানপুরের বাসায় বিদ্রোহী নেতা ছাত্রদলের নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারকে ডেকে নেন। ইসহাক দুপুর ২টায় বাসায় যাওয়ার পর আব্বাস প্রায় ৩০ মিনিট তাঁর সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। এ সময় আব্বাসকে আশ্বস্ত করে ইসহাক জানান, নতুন করে বিদ্রোহে ভূমিকা রাখবেন না তিনি।
ইসহাক সরকারের সঙ্গে কথা বলার পরপরই মির্জা আব্বাস নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে নিয়ে বৈঠক করেন। এর মধ্যে এ্যানি ও টুকু ছাড়া বাকিদের খালেদা জিয়া দায়িত্ব দিয়েছেন সংকট সমাধান করতে। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কক্ষে বিকেল ৩টা থেকে প্রায় ঘণ্টাখানেক বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা সাংবাদিকদের কিছু না বলেই চলে যান। এ সময় মির্জা আব্বাস উপস্থিত সংবাদকর্মীদের হাসতে হাসতে বলেন, ‘ছাত্রদল একটি বড় সংগঠন। এতে কিছু সমস্যা তো হতেই পারে। সমস্যা দেখা দিয়েছে। তা মিটেও যাবে।’
বৈঠক সূত্র জানায়, পদবঞ্চিত সিনিয়র নেতাদের যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গদলের নেতৃত্ব দিয়ে এবং জুনিয়রদের ছাত্রদলের অন্য পদগুলোতে বসিয়ে সংকট নিরসনের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে একজন সহিংসতাকারীদের বহিষ্কারের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেন। তবে এ ব্যাপারে বাকিরা আগ্রহ দেখাননি। বৈঠক শেষে পদবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ব্যাপারে পদবঞ্চিত নেতা তরিকুল ইসলাম টিটু জানান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, রাতে চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলে সংকট নিরসন করবেন। পদবঞ্চিতরা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে জানিয়েছেন, রাত ১২টা পর্যন্ত দেখা হবে। এর মধ্যে সংকট নিরসন করতে না পারলে আবারও নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এই নেতারা গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় যান খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায়। বৈঠক চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, যুববিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
বৈঠক শেষে এক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, ছাত্রদলের মূল নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন হবে না। বেগম জিয়া তা নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন। তবে যারা পদবঞ্চিত হয়েছে তাদের খালি থাকা পদে পুনর্বাসন করা হবে। একই সঙ্গে যারা বয়সের কারণে বাদ পড়েছে তাদের যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে পদ দেওয়া হবে।
ওই নেতা আরো জানান, যারা বিক্ষোভ করছে তাদের ওপর বিরক্ত দলীয় প্রধান। এখন আন্দোলনের নামে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করছে। অথচ এদেরই সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে দেখা যায় না। আলোচনায় না এলে এসব নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া।
সূত্র জানায়, গত রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রবার্ট গিবসন বেরিয়ে যান। এরপরই ফখরুল, মির্জা আব্বাস, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে নিয়ে বৈঠকে বসেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়ার কাছে ছাত্রদলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন ফখরুল। সন্তোষজনক জবাব এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় অনেকটা রাগান্বিত সুরে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। একই সুরে আব্বাসের কাছে জানতে চান, কারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে। জবাবে আব্বাস কয়েকজনের নাম বলেন। খালেদা জিয়া এ সময় ছাত্রদলের সমস্যা সমাধানে একটি কমিটি করে নিজেদের স্বার্থে যারা ছাত্রদলকে নিয়ে খেলছেন তাঁদের সতর্ক করে দেন। বৈঠকের একপর্যায়ে খালেদা জিয়া জানতে পারেন আমানউল্লাহ আমান ও নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর অনুসারীরা মূলত বিদ্রোহী ও পদবঞ্চিতদের সব ধরনের সহায়তা করছে। বৈঠকের পর বিএনপি চেয়ারপারসন অনুসারীদের থামাতে আমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার নির্দেশ দেন ফখরুলকে। নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুকেও একই বার্তা পাঠানো হয়। ইসহাক পুরান ঢাকার এই নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে যারা এ বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তার বেশির ভাগই কর্মীই ঢাকা মহানগর দক্ষিণের।
এদিকে নতুন কমিটির সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা গতকাল সকালে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে যায়। তাদের সমর্থক বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীকে এ সময় কার্যালয়ের সামনে দেখা গেলেও আগের দিন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কেউ ছিল না। এরপর বিকেল ৩টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সহসম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান মির্জা আব্বাস। এর পরই তিন দিন ধরে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও মারামারির পর সমাধানের পথ খুঁজতে রূদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs