সর্বশেষ সংবাদ :

আওয়ামী লীগে আতংক : আসছে লতিফ সিদ্দিকীর বোমা ফাটানো বই!

Share Button

93068_1

রিপোর্টঃ-মোঃ আরিফ আহাম্মেদ
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০১৪।

সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার ও তাজউদ্দীনকন্যা শারমিন আহমেদ বই লিখে ‘বোমা ফাটানোর’ পর এখন নতুন আরেকটি বই-বোমা আতঙ্কে ভুগছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই আতঙ্ক এবার মন্ত্রিসভা ও দলের সভাপতিমণ্ডলী থেকে অপসারিত লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে। দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে লতিফ সিদ্দিকীর বই লেখা ও তা নিয়ে দলের অনেকের ভেতরের উদ্বেগ-আতঙ্কের কথা জানা গেছে। তবে ভেতরে আতঙ্ক কাজ করলেও প্রকাশ্যে দলের অনেক নেতাই বলেছেন, তিনি কী করলেন-না করলেন তা নিয়ে আওয়ামী লীগ ভাবছে না।

আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, সম্প্রতি এক দীর্ঘ আলাপচারিতায় লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, সব কিছুরই জবাব দেবেন তিনি। ‘সেটা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে’ জানতে চাইলে লতিফ সিদ্দিকী

তাঁর পূর্বসূরি বাংলাদেশের এ কে খন্দকার ও ভারতের নটবর সিংয়ের পথ অনুসরণ করার কথা জানান। উল্লেখ্য, ভারতের কংগ্রেস দলের নেতা নটবর সিং বই লিখে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা করেছিলেন। আর এ কে খন্দকার বই লিখে রীতিমতো ঝড় তোলেন দেশে।

অনেক নেতার ধারণা, রাজনীতিকদের মধ্যে বই লেখার মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বই প্রকাশ করে বোমা ফাটাতে পারেন ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে সদ্য মন্ত্রিত্ব ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদ থেকে বাদ পড়া আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তাই আওয়ামী লীগের ভেতরে সন্দেহ ঘণীভূত করে তুলেছে। লতিফ সিদ্দিকীর বই লেখার বিষয় কারো কারো মধ্যে খানিকটা চিন্তার কারণ হিসেবেও দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতাও চিন্তিত এ কারণে যে, বই লিখে আবার কখন কাকে আক্রমণ করে বসেন লতিফ সিদ্দিকী! কারণ, দীর্ঘদিন দলে থাকার কারণে রাজনৈতিক সহকর্মীদের এবং দলের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের বড় নেতা ছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ হয়েছে তাঁর। বিভিন্ন সময় দলের হাল ধরেছেন তিনি। তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য পত্রপত্রিকায় দেখেছি। এ অবস্থায় আমি মনে করি, লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যাবে এমন কিছু করবেন না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের প্রভাবশালী ও লতিফ সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, লতিফ সিদ্দিকী বই লিখবেন এটা অনেকখানি নিশ্চিত করে বলা যায়। তিনি আলোচনায় থাকতে এবং কিছু সহকর্মী রাজনীতিককে বিতর্কে ফেলতে এ কাজ করবেন। কারণ, সরকার ও দলের অনেকের ওপরই তিনি রুষ্ট।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দল থেকে সর্বস্বান্ত লতিফ সিদ্দিকী এখন ক্ষুব্ধ। এর বহিঃপ্রকাশ বই লিখে ঘটাতে পারেন তিনি। যেমন বই লিখে আলোচনায় এসেছিলেন এ কে খন্দকার ও শারমিন আহমেদ। তবে তাঁদের লেখা বই আওয়ামী লীগের কাছে খুব একটা গুরুত্ব বহন না করলেও রাজনীতির মাঠে ক্ষমতাসীনদের বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল ঠিকই। তবে নানা কৌশলে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে তুলতে সক্ষম হলেও লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা কাজ করছে।

সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের কাছে বলেছেন, রাজনীতিকরা বোকায়দায় পড়লে বই লিখে আবার আলোচনায় আসতে চান, যেমন বই লিখে আলোচনায় আসতে চেয়েছিলেন এ কে খন্দকার। আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, হঠাৎ করে লতিফ সিদ্দিকীর যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া, ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। সেই ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে ব্যবহার করে শুধু বই কেন, দল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আরো অনেক ঘটনাই ঘটাতে পারে। তাদের ষড়যন্ত্র এখানেই শেষ নয়। লতিফ সিদ্দিকী যেহেতু ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, সুতরাং তাঁর দ্বারা অনেক কিছুই হতে পারে।

লতিফ সিদ্দিকীর লেখালেখি ও সক্রেটিস হওয়ার ইচ্ছাকে অনেকটা ব্যঙ্গ করে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, ‘সক্রেটিসের পরে আবারও সক্রেটিসের আর্বিভাব হলে বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসী উপকৃত হবে। আমাদের গভীরভাবে অপেক্ষা করা উচিত যে, সক্রেটিসের মতো একজন আসছেন।’ তিনি বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী কী করল না করল তা নিয়ে আওয়ামী লীগ ভাবছে না।’

জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, লতিফ সিদ্দিকী বই লিখতে পারেন তবে তাঁর লেখা বই জনগণ গ্রহণ করবে না। কারণ তিনি মুসলমানের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করেছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফলে জনগণ তাঁর লেখা কিছু গ্রহণ করবে না।

এদিকে আওয়ামী লীগের একটি অংশ মনে করে, লতিফ সিদ্দিকী বিকৃত রাজনীতির চর্চা করতে পারেন। কোনো কিছু লিখে বা বই প্রকাশ করে তাঁকে অবশ্যই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে সেটা করতে হবে। এটা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী এখন আমাদের দলের কেউ নন। তিনি একজন সাধারণ নাগরিক। তিনি লেখালেখি করার ইচ্ছা জাগলে লিখবেন। তাতে আমাদের কী’- প্রশ্ন তোলেন হানিফ।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs