সর্বশেষ সংবাদ :

সমাজে দিন কি দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে ।সম্পাদকীয়

Share Button

 45734_480876018639497_1811827755_n

সম্পাদক::- মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০১৪।

সমাজে দিন কি দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে? গত কয়েক দিনের অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করতে গেলে এ প্রশ্নটিই এখন সামনে এসে যাচ্ছে। স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, খুনের পর লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখার ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। একটি সুন্দর সমাজব্যবস্থা আমাদের সবারই কাম্য। সেখানে দিনে দিনে গুম-খুন-অপহরণের মতো ঘটনা বেড়ে গেলে তা স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়েই দেখা দেয়। সমাজের অপরাধপ্রবণতা যে ঘরে ঢুকে গেছে, তা-ও বলার অপেক্ষা রাখে না। চট্টগ্রামের রাউজানে স্বামীকে খুনের পর ১০ দিন লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখার ঘটনা ও ঢাকায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন হওয়ার ঘটনায় স্বজন হত্যার আতঙ্ক দেখা দেওয়াটাই স্বাভাবিক।

মানতে হবে, আমাদের সমাজে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। কোনোভাবেই সমাজকে অপরাধমুক্ত করা যাচ্ছে না। সামাজিক অপরাধের পাশাপাশি পারিবারিক অপরাধের মাত্রাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আমাদের সমাজজীবন থেকে সামাজিক বন্ধনগুলো ক্রমেই আলগা হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে। ক্ষয়ে যাচ্ছে সব ধরনের মূল্যবোধও। এরই কুফল পড়তে শুরু করেছে সমাজের সর্বত্র। ফলে সামান্য কারণেই ঘটে যাচ্ছে খুনোখুনি। বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়া ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের সঙ্গে নানা সামাজিক অপরাধও বিস্তৃত হচ্ছে। সমাজে পরিবর্তনের এক অসুস্থ ধারা তৈরি হচ্ছে। এই পরিবর্তিত অবস্থার সহিংস বহিঃপ্রকাশ ঘটতে দেখা যাচ্ছে। কারণ সমাজ পরিবর্তনের এ ধারার সঙ্গে অনেকেই খাপ খাওয়াতে পারছে না। সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।

সামাজিক এই অস্থিরতা ও পারিবারিক নৃশংসতা নিরসনে সমন্বিত অনেক উদ্যোগ প্রয়োজন। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই মূলত এ রকম নানা ঘটনা ঘটছে। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতা বাড়ছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে অনেক পারিবারিক নিষ্ঠুরতার ঘটনা ঘটেছে। তাতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার দায় নেই- এমন কথাও স্পষ্ট করে বলা যাবে না। বর্তমান নৃশংস কর্মকাণ্ড অসুস্থ ও অস্থির সমাজের নির্দেশক। কাজেই সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে সব মহলকে সচেষ্ট হতে হবে। তার জন্য আইনি প্রচেষ্টার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। মানবিক, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। এসব ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক অস্থিরতা ও সহিংসতা কমাতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs