সর্বশেষ সংবাদ :

তিতাসে আ’লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে পৃথক মামলা আসামী ৪শতাধিক গ্রেফতার ৪ ॥

Share Button

11c5nitas_photo_11.10.14

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১৭ অক্টোবর ২০১৪।

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নে ৫দিনের টানা রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষে তিতাস থানায় পৃথক দু’টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এতে কলাকান্দি, হারাইকান্দি, কালাচানকান্দি ও পোড়াকান্দি গ্রামের এজাহারিয় ৫৩জন ও আরো ৪শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দু’টি রুজু করা হয়। ফলে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শুন্য হয়ে পরে ওই চার গ্রাম।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মোঃ হাবিবুল্লা বাহার গ্রুপের সাথে আ’লীগ সমর্থক মোঃ ইব্রাহিম গ্রুপের বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে গালমন্দ করা নিয়েই সংর্ঘষের সৃষ্টি হয়। এরপরই উভয় গ্রুপে আধিপত্য বিস্তারে আগ্নেআস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রেশস্তে সজ্জিত হয়ে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষে মেতে উঠে। এতে উভয় পক্ষের দুজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০জন আহত হয়েছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ১৬ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার তিতাস থানায় দু’টি পৃথক মামলা রুজু হলে উভয় গ্রুপের মধ্যে সিনা টান টান উত্তেজনা শুরু হয়। গত মঙ্গলবার সকালে তারই বিস্ফোরন ঘটে। দু’গ্রুপই পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাজাওে মহড়া দেয়। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দাওয়া দেয়। টেটা, বল্লম, রামদা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কলাকান্দি বাজার দখল করে নেয় ইব্রাহিম গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। বাজার ছেড়ে এক পর্যায়ে হারাইরকান্দি গ্রামেও ডুকে পরে তারা। এসময় জমির মধ্যে থাকা আট/দশটি খড়েরর গাদায় অগ্নিসংযোগ করে উল্লাসে ফেটে পরে এবং কলাকান্দি বাজারের কয়েকটি চায়ের দোকানে বসত ঘরে ব্যপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। উভয় গ্রুপের সন্ত্রাসীদের চর্তুমুখী সন্ত্রাসী তান্ডবে মাত্র কয়েকজন নিরুপায় হয়ে পরে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ ২৬ রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। উক্ত সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের ইট পাটকেল নিক্ষেপে মোট ২৫জন আহত হয়। গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে মামলার এজাহারীয় ও অজ্ঞাত আসামীদের গ্রেফতার অভিযানে মাঠে নামে কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন, কুমিল্লা উত্তর মুরাদনগর উত্তর সার্কেল এএসপি মোঃ নজরুল ইসলাম ও তিতাস থানা ওসি তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান। রাতভর চলা অভিযানে বিষফোরক দ্রব্য মামলার আসামী মোঃ মিষ্টার মিয়া ও মোঃ আনিছ মোল্লাসহ সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন এবং যুবলীগ নেতা দিদারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের এই গ্রেফতার অভিযানে একদিকে চার গ্রামে পুরুষ শুন্য পরে অপরদিকে বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। বুধবার সকালে কলাকান্দি বাজারের কয়েকটি দোকানপাট খুলতে দেখা গেছে।
ইাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দোকানি জানায়, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিলেই এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে। পুলিশ এলাকায় থাকলে আমাদের তেমন ভয় থাকে না।চলে গেলেই হামলার ভয়ে আমরা দোকান খুলতে সাহস পাই না।
তিতাস উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিয়া ফেরদৌসি জানায়, ঘটনা শোনার সাথে সাথে আমি তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এমনকি প্রয়োজনে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতেও বলেছি।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের জানান, দুই গ্রুপেই পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। একটি মামলায় ২৫জন ও অপর মামলায় ২৮জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুটি মামলায় আরো ৪শতাধিক অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত ৪জনকে গ্রেফততার করতে সক্ষম হয়েছি। অন্যদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs