সর্বশেষ সংবাদ :

স্ত্রী স্বামীকে খুন করে রান্না ঘরে মাটি চাপা দিলেন , আটক ২

Share Button

raojan-ki

স্টাফ রিপোর্টারঃ
১৬ অক্টোবর ২০১৪।

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নে স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যার পর নিজ ঘরেই মাটিচাপা দিয়েছে এক স্ত্রী। নিহত স্বামীর নাম দুদু মিয়া (৩৩)। হত্যাকাণ্ডের ১০দিন পর ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে রাউজান থানা পুলিশ চিকদাইর ইউনিয়নের দক্ষিণ সর্তার সুনিত্তে পাড়া গ্রামের নিজ ঘরের মেঝে খুঁড়ে দুদু মিয়ার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় দুদু মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (২৬)। ঈদুল আযহার রাতে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। দুদু মিয়া ওই এলাকার টুনু মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাউজান থানার ওসির কার্যালয়ে চট্টগ্রামের এডিশনাল এসপি শহিদুল্লাহ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের নিকট আটককৃত ঘাতক শাহানাজ বেগম ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনায় বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার দিন রাতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক তথা টাকা পয়সা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী দুদু মিয়া স্ত্রী শাহানাজ বেগম কে মারধর করে। স্বামী স্ত্রী কে হুমকি দেয় “বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে কেটে টুকরো টুকরো করে সর্তা খালে ভাসিয়ে দেব।” এগুলো বলার পর স্বামী তার শয়ন কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। সুযোগ বুঝে স্ত্রী শাহানাজ ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে দা দিয়ে ঘুমান্ত অবস্থায় তার স্বামীকে গলায় পর পর তিন চারটি কোপ মেরে তাকে হত্যা করে। তখন শাহানাজ লাশটি মাটিতে পুতে ফেলার জন্য পার্শ্ববতী বাবুল কে বললে সে বলে দেয় সর্তা খালে ফেলে দাও। পরবর্তীতে শাহানাজ নিজে তার রান্না ঘরের চুলার পাশে গর্ত খনন করে লাশাটি পুতে ফেলে। কেউ যাতে বুঝতে না পড়ে সে জন্য স্থানটি লেপন করে দেওয়া হয়।

একদিন পর বাড়ীর আশে পাশে লোকজন শাহানাজের কাছে জানতে চায় তোর স্বামী দুদু মিয়া কোথায়? সে একেকদিন একেক কথা বলায় স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ দেখা দেয়। এর মাঝে গত বুধবার রাতে লাশ থেকে গন্ধ বের হলে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয়রা ঘটনাটি জানতে পেরে রাউজান থান পুলিশের কাছে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে ঘটনার সত্যতা খুজে পায়। পুলিশ মাটি খুড়ে গলিত লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে। তার ঘাতক স্ত্রী শাহানাজ বেগম ও রহস্যময়ী বাবলু কে আটক করে রাউজান থানায় নিয়ে আসে । এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত পুলিশ আটককৃতদের জিজ্ঞাসা করছে।

থানার ডিউটি অফিসার মুরাদ জানান, মামলার প্রস্তুতি চলছে। সহকারী পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘাতক শাহানাজের সাথে দুদু মিয়ার বিয়ে হয় ১৪ বছর আগে। তাদের সংসারে দুই ছেলে দুই মেয়ে রয়েছে। শাহানাজের বাপের বাড়ী হাটহাজারীর উপজেলার উত্তর মার্দাশা এলাকায়। তার পিতার নাম আবুল খায়ের।

রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ১০ দিন আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন রাউজান চিকদাইর ইউনিয়নের সিএনজি চালক দুদু মিয়া। বুধবার রাতে দুদু মিয়ার বোন এ ঘটনায় রাউজান থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ দুদু মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে আটককরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে থাকলে পুলিশের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী দুদু মিয়াকে জবাই করে হত্যার পর নিজ ঘরে লাশ পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করেন শাহনাজ। স্ত্রীর স্বীকারোক্তির পর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের উত্তরসত্তা গ্রামে নিজের ঘরের মেঝে খুঁড়ে দুদু মিয়ার (৩৩) লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরো জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী শাহনাজ তার স্বামী দুদু মিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। নিজ ঘরের মেঝ খনন করে লাশ উদ্ধারের পর দুদু মিয়ার লাশ ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য দুদু মিয়া ও শাহনাজ দম্পতি দুই সন্তানের জনক।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs