সর্বশেষ সংবাদ :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালি যাচ্ছেন আজ

Share Button

image_139016.1411639982

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১৪ অক্টোবর ২০১৪।

দশম এশিয়া-ইউরোপ মিটিং (আসেম) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালি যাচ্ছেন। তার সফর প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা জানাতে আয়োজিত গতকালের সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫০ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধি দল নিয়ে আজ দিনের শুরুতে মিলানের উদ্দেশে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। তবে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকায় থাকা অন্তত ১১ জন ভিসার আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। সেই তালিকায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীও রয়েছেন। ভিসা পাননি গণমাধ্যমের চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন- বিশিষ্ট সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সংবাদ সম্পাদক আলতামাস কবীর, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত বাসস, ইউএনবি ও বিডি নিউজের রিপোর্টারও ভিসা পাননি। নিজ খরচে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়া ৭৩ ব্যবসায়ী প্রতিনিধির মধ্যে ৭০ জন ভিসা পেলেও ৩ জনের ভিসা না দিয়ে পাসপোর্ট ফেরত পাঠিয়েছে ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাস। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আবুল হাসান মাহমুদ আলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সবার ভিসা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কারও ভিসা হয়নি- এমন তথ্য তার জানা নেই বলে দাবি করেন। তবে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৫ই অক্টোবরের মধ্যে যারা আবেদন করেছেন তাদের সবার ভিসা হয়েছে। ওই তারিখের পর ১১ জন আবেদন করেছিলেন তাদের ভিসা হয়নি।
সকালে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: এদিকে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সকাল ১০টায় ঢাকা ত্যাগ করবে। স্থানীয় সময় ৩টা ৫০ মিনিটে এ ফ্লাইটটি মিলান মালপেনসা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬ই অক্টোবর শীর্ষ সম্মেলনে ‘এশিয়া পার্টনারশিপ ইন এড্রেসিং  গ্লোবাল মেটার্স ইন এন ইন্টার-কানেকটেড ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক ভাষণ  দেবেন। তিনি অন্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা এবং শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনেও  যোগ দেবেন। শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি শেখ হাসিনা ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি, গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী এন্তোনিও সি সামারাস, সুইডেনের স্টিফেন লফভেন এবং  নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। তিনি মিলানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেয়া সংবর্ধনায়ও  যোগ দেবেন। ১৮ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন। বাংলাদেশ ২০১২ সালে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আসেম-এর সদস্যপদ লাভ করে। এর মধ্যে ২৯টি সদস্য দেশ হচ্ছে ইউরোপের। আর এশিয়ার সদস্য  দেশ হচ্ছে ২০টি। এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আসিয়ান সচিবালয়ও আসেম-এর সদস্য। ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে  যোগাযোগ সমপ্রসারণের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর ওপর আলোকপাত করবেন। মন্ত্রী বলেন, আসেম শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে দেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে সক্ষম হবে।  প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিতর্কিত রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে: ফিলিপাইন, গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বিতর্কিত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে  লেবাননে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গাউসুল আজমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে। গতকাল বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এসব তথ্য জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অভিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে অন্যায়কারী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর্থিক ও নারী কেলেঙ্কারি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে নির্যাতনের অভিযোগে তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে নৈশভোজে আমন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। ভারতের বর্ধমানে বোমা হামলায় বাংলাদেশীদের জড়িত থাকার বিষয়ে দেশটির অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারতের কাছে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ আলী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কখনও এ ধরনের জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয়  দেয় না বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। তিনি বলেন, তবে ইরাক ও সিরিয়ার বিষয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আমরা বিশ্বাস করি। তাদের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ করা হোক। জাতিসংঘের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তায়  কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, সেটাতে আমরা অংশ নেবো।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs