সর্বশেষ সংবাদ :

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় আ’লীগের দুই গ্রুপের সংর্ঘষ

Share Button

11c5nS_PHOTO_14.10.14

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১৪ অক্টোবর ২০১৪।

তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নে আবারো আ’লীগের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৪জন আহত হয়েছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ২৬ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ে। পুলিশের এই ভূমিকায় সাধারন মানুষের প্রাণ রক্ষা পায়।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কলাকান্দি বাজারে। আবারো বড় ধরনের রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মোঃ হাবিবুল্লা বাহার গ্রুপ ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মোঃ ইব্রাহিম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। তারই জের ধরে গত ১০ অক্টোবর উক্ত দুই গ্রুপের মধ্যে গুলাগুলির ঘটনাও ঘটেছিলো।

আরো জানা যায়, ওই ঘটনায় পুলিশ উভয় গ্রুপের কোন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করায় পুনরায় এ সংঘর্ষের ঘটনা সংঘটিত হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

এদিকে যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম সাংবাদিকদের জানায়, সকাল আনুমনিক সাড়ে আটটায় বাসায় নাস্তা করতে ছিলাম এসময় খবর আসে হারাইর কান্দি গ্রাম থেকে বাহারের নেতৃত্বে কয়েক’শ লোক দেশীয় অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাজারে হামলা করতে আসছে। এ খবর শুনে কলাকান্দি গ্রামের নারী-পুরুষ বাজার রক্ষা করতে রাস্তায় নেমে পরে।

11c5nTAS PHOTO 14.10.14

অপরদিকে কলাকান্দি ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি হাবিবুল্লা বাহার সাংবাদিকদের জানান, সকালে হারাইরকান্দি ও কালাচাঁনকান্দি গ্রামের লোকজন বাজার করতে কলাকান্দি বাজারে গেলে ইব্রাহিম ও নজুর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ উক্ত দুই গ্রামের লোকজনকে মারধর করে বাজার থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। এ খবর গ্রামে পৌছলে গ্রামের ঐতিহ্য রক্ষার্থে নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে পরে।

কলাকান্দি বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই হঠাৎ করে ইব্রাহিম ও বাহার গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাজারে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এসময় তারা বাজারের কয়েকটি দোকানে ভাংচুর লুটপাট করে নিয়ে যায়।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান দৈনিক মুক্তকন্ঠকে জানান, সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটায় বাহার গ্রুপ ও ইব্রাহিম গ্রুপ গত ১০ অক্টোবরের সংঘর্ষের জের ধরে আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেছে বলে খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। এসময় আমাদের পুলিশ ২৬ রাউন্ড ফাকা গুলির বিনিময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়।

উক্ত সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের ইট পাটকেল নিক্ষেপে আহতরা হল, মোঃ ফজলূ (৩৫), যুবলীগ নেতা দিদার (৩৫), শাহ আলম (৩৬), ফয়সাল (১৮), সাবিকুল (৩০), পারভেজ (২২), জসিম (৩৫), পরিস্কার বেগম (৫৫), মমিন (৩২), মালেক (৫০), রাসেল (২৪), মনু মিয়া (৩৫), আল আমিন (২৬), মুকবল (১৪), তৌফিকুল ইসলাম (২২), শরিফ (২২), সবুজ (২০), রুবেল (২২), নাসরিন (১৮), খোকন (৩২), নবীজিল (৪০), কাদির (২২) হাবি (৩৫), বাছির (২৮) ও আব্দুল (২৮)। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংগ্রহঃ- কুমিল্লার বার্তা ডটকম

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs