সর্বশেষ সংবাদ :

নোয়াখালীতে ওসিসহ ১৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

Share Button
police
স্টাফ রিপোর্টারঃ
১৪ অক্টোবর ২০১৪।
সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি নজরুল ইসলামকে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে সোনাইমুড়ী ও চট্টগ্রামের বন্দর থানার ৩ ওসি, ২ এসআইসহ ১২ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গুলিবিদ্ধ নজরুলের বাবা আবুল কাশেম বাদী হয়ে নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ মো: আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে এটি তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলো, সোনাইমুড়ী থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ উল ইসলাম, সাবেক (ওসি) আব্দুস সামাদ, উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল বাহার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর থানার ওসি, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদসহ ১৭ জন পুলিশ।বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. রবিউল হাসান পলাশ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,  মামলার বাদী আবুল কাশেমের ছেলে নজরুল ইসলামকে একটি হত্যা মামলায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে সোনাইমুড়ী থানায় নিয়ে আসেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল বাহার চৌধুরী। পরে রাতে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ক্রস ফায়ারের নামে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাম পায়ে গুলি করে পুলিশ। গুলির পর তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় রেখে চলে যায় পুলিশ। পরে পরিবারের লোকজন তাকে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উক্ত হাসপাতালে নজরুলকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মতে তার বাম পা কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশায় মঙ্গলবার সকালে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও পুলিশী হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর-১৫ ধারায় এই মামলা দায়ের করেন নজরুলের বাবা আবুল কাশেম। দায়রা পিটিশন মামলা নং-২/২০১৪।উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক আরিফ হেসেনকে পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত  আরো কয়েক জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামী ছিলেন ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম। পরে মামলায় ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ। ওই দিন রাত দেড়টার দিকে পুলিশের কথিত বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয় নজরুল।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs