সর্বশেষ সংবাদ :

সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য অনুতপ্ত –বিবিসিকে লতিফ সিদ্দিকী

Share Button

93068_1

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১৪ অক্টোবর ২০১৪।

মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, দল ও সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য তিনি অনুতপ্ত। কিন্তু যে বক্তব্যের জের ধরে তাকে নিয়ে এ বিতর্ক, সেটা নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। গতকাল বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন।

হজ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর গত রোববার মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়। বর্তমানে তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন।

বিবিসিকে দেয়া ওই সাক্ষাত্কারে লতিফ সিদ্দিকী জানান, দেশে ফেরার জন্য তিনি সরকার ও দলের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরা না হলে তিনি ভারতের আশ্রয়ে থাকতে চান। যে মন্তব্যের কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘরোয়া আড্ডায় দেয়া বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার পরই লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণ করে আদেশ জারি করা হয়।

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ২১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল প্রবাসীদের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন লতিফ সিদ্দিকী। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যও ছিলেন তিনি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে ফিরতে পারবেন কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার জীবনে এরকম ঝড় বহুবার এসেছে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছিলাম। তারপর বিতাড়িত হয়েছিলাম। কয়দিন যুদ্ধও করেছি। তার পর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আমার দ্বিমত হয়েছে বলে আমি সরে এসেছিলাম। এখনো কাদের সিদ্দিকী ক্ষমা চাচ্ছে। আমি তো তাকে আমার পক্ষে ক্ষমা চাওয়ার দায়িত্ব দিইনি।’

সরকার এবং দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখছেন? জানতে চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক। কারণ আমি একটা দল করি। দলের একটা নিয়মশৃঙ্খলা আছে। সেই নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছি বলে আমার দলনেতা মনে করেছেন। সেজন্য দলের নেতা ব্যবস্থা নিয়েছেন দলের সর্বোচ্চ ফোরামে বসে। সো, এটা নিয়ে আমার তো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার কথা না। এই দলই আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছে। এ দলের নেতাই আমাকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এখন তিনি বা তার সহকর্মী মিলে যদি মনে করেন, আমি সহকর্মী হওয়ার যোগ্যতা রাখি না; সেটা সংখ্যাগরিষ্ঠ গণতন্ত্রে তো কোনো অপরাধ নয়।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs