সর্বশেষ সংবাদ :

সব হারালেন লতিফ

Share Button
93068_1
আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এখন আর সরকারের মন্ত্রী নন। এমনকি আওয়ামী লীগেরও কেউ নন। তাকে দলের প্রেসিডিয়াম ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণ ও দল থেকে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত আসে। দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অপসারণের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ, তাবলিগ জামাত ও প্রধানমন্ত্রী তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ১৫ দিনের মাথায় তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিল সরকার। দুপুরের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে মন্ত্রীদের তালিকা থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নাম মুছে ফেলা হয়। নতুন নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে বলে জানা গেছে।
রোববার দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বঙ্গভবনে যান। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞাকেও ডেকে পাঠানো হয়। বঙ্গভবন থেকে ফিরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এ সময় জারি করা প্রজ্ঞাপন পড়ে শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের ১ দফার (গ) উপধারা অনুযায়ী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’ কেন লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিত্বের ‘অবসান’ ঘটানো হল- সে বিষয়টি অবশ্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবও এর বাইরে কিছু বলেননি। এ অবসানের অর্থ ‘অপসারণ’ না ‘অব্যাহতি’- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দুটো একই বিষয়। মিনিং একই। আমরা সংবিধানের ভাষা ব্যবহার করেছি।’
হজ পালনের পর রাষ্ট্রপতি দেশে ফেরেন শুক্রবার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবও একই দিনে দেশে ফেরেন। শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে (লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণ) একটি ফাইল আসবে। আমরা একটি সামারি তৈরি করে তা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠাব। রাষ্ট্রপতি তাতে সাইন করার পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ এর পরদিন রোববার অপসারণসংক্রান্ত সেই প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।
এর আগে নিউইয়র্ক থেকে ফিরে ৩ অক্টোবরই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে দেন লতিফ সিদ্দিকী আর মন্ত্রিসভায় থাকবেন না। তবে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হজ পালনে সৌদি আরবে থাকায় লতিফ সিদ্দিকীকে বাদ দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা ঝুলে থাকে আরও এক সপ্তাহ। ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি নির্দেশ দিলে রিজাইন (পদত্যাগ) করতে হবে। নইলে বিদায় করে দিতে হবে। কিন্তু বিদায় দিতে হলে রাষ্ট্রপতির কাছে ফাইল পাঠাতে হবে। রাষ্ট্রপতি হজে গেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবও হজে গেছেন। আমি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ফাইল তৈরি করে রাখতে বলেছি, অফিস খুললে ফাইল চলে আসবে।’
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সফরে থাকার সময় ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ, তাবলিগ জামাত ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এরপর তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। লতিফ সিদ্দিকী সেদিন বলেছিলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী।’ এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ হজে যাওয়ায় দেশের অর্থ আর শ্রমশক্তির ‘অপচয়’ হয়। জয়কে নিয়েও তিনি বলেন- জয় ভাই কে? তিনি সরকারের কেউ নন। আমরাই সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs