সর্বশেষ সংবাদ :

আমাদের চামড়ায় ভারতের ব্যবসা

Share Button

image_137265.a

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০১৪।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা প্রতিবছরই কাঁচা চামড়া কম দামে কেনার নানা কৌশল করেন। অন্যদিকে ভারতের ব্যবসায়ীরা ২০ থেকে ২৫ টাকা বেশি দাম দিয়ে অগ্রিম চামড়া কিনে রাখেন। ভারতের গরুর চামড়ার গুণগত মান ভালো না থাকায় সেখানকার কারখানাগুলোতে স্থানীয় পশুর চামড়ার চাহিদা অতি সামান্য। কিন্তু আমাদের দেশি ও ক্রস গরুর চামড়ার মান ভালো থাকায় ভারতসহ বিশ্ববাজারে এসব চামড়া থেকে তৈরি চামড়াজাত পণ্যের ভালো চাহিদা রয়েছে। ভারতের ব্যবসায়ীরা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নানা কৌশলে বাংলাদেশ থেকে চামড়া পাচার করে তাঁদের কারখানায় বিভিন্ন ডিজাইনের চামড়াজাত পণ্য তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করছেন। এতে বাংলাদেশের চামড়ার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চামড়াজাত পণ্যের প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বাজার রয়েছে। তবে শুধু কাঁচা চামড়া রপ্তানি করে বিশ্ববাজারে টিকে থাকা যাবে না। ভারত এ দেশ থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে রকমারি চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসা করে বিশ্ববাজার দখল করছে। তাই আন্তর্জাতিক চামড়ার বাজারে দাপটের সঙ্গে টিকে থাকতে এ দেশে গড়ে তুলতে হবে চামড়াজাত পণ্যের শিল্প-কারখানা। এতে দেশের বাজারে কাঁচা চামড়ার চাহিদা সৃষ্টি হবে। ফলে ট্যানারির মালিকরাও কাঁচা চামড়া যেকোনো মূল্যে সংগ্রহে আগ্রহী হবেন। সীমান্তেও চামড়া পাচার কম হবে।

এবার ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, ঈদের পর তিন দিন চামড়াবাহী কোনো ট্রাক রাজধানীর বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। তবে এ সময় চামড়াবাহী ট্রাক রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারবে। বাস্তবতা হচ্ছে, শুধু রাজধানীতে কিছু পাহারাদার বসিয়ে চামড়া পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য নেওয়া প্রয়োজন দেশব্যাপী সমন্বিত ব্যবস্থা। পাশাপাশি প্রতিটি চামড়া যাতে যথাযথ মূল্যে বিক্রি হয় সে ব্যবস্থা করা। মিথ্যা প্রচারণার বিপরীতে প্রকৃত তথ্য সচেতন করা এবং সিন্ডিকেট নির্মূল করে সাধারণের স্বার্থ রক্ষা করা।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs