সর্বশেষ সংবাদ :

ঢাকা জেলা জজের বদলির সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি

Share Button
images1
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০১৪।
ঢাকার জেলা ও দায়রা জজকে বদলি করতে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের সুপারিশ সাড়ে ছয় মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি। আগামী ডিসেম্বরে এই জেলা জজ অবসরে যাবেন। এ সময়ের মধ্যে সুপারিশ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অধীনস্থদের পরিচালনায় অদক্ষতার অভিযোগে তাকে বদলির সুপারিশ করা হয়েছিল।
তবে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজসহ এই আদালতের পাঁচ বিচারক ও সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের সুপারিশ অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইন ও বিচার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজকে বদলির জন্য সুপ্রিমকোর্টে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেটি নাকচ হওয়ার পর আর নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। এখন আবার প্রস্তাব পাঠানো হবে। এছাড়া সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের সুপারিশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গত ডিসেম্বর মাসে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জিনাত আরা ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজসহ পাঁচ বিচারক এবং ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থঋণ আদালতের দুজন বিচারক সঠিকভাবে নোটিশ না পাঠিয়ে ব্যাংকের পক্ষে একাধিক রায় প্রদান করেছেন। একজন বিচারক একটি রায়ের সব জায়গায় খারিজ উল্লেখ করলেও আদেশে তিনি খারিজ না লিখে ডিক্রি প্রদান করা হল বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিচারপতি জিনাত আরা পরিদর্শন সংক্রান্ত ব্যয় বাবদ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফিউল্লাহ পাটোয়ারী আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা উঠিয়েছেন। এ বিষয়ে ওই বিচারপতি জেলা ও দায়রা জজের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। এছাড়া প্রতিবেদনে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন ২৫ মার্চ ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আবদুল মজিদকে বদলির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। দীর্ঘদিন ধরে একই স্টেশনে কর্মরত থাকা এবং তার অধীনস্থদের সঠিকভাবে পরিচালনায় অদক্ষতার অভিযোগে তাকে বদলির এই সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ২৮ এপ্রিল অপর এক চিঠিতে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।
অন্য যাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয় তারা হলেন- ঢাকার অর্থঋণ আদালত-১ এর সাবেক বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ) মো. রবিউজ্জামান, ঢাকার অর্থঋণ আদালত-২ এর সাবেক বিচারক যুগ্ম জেলা জজ আল মামুন, বর্তমানে সিলেটে কর্মরত ঢাকার সাবেক যুগ্ম জেলা জজ ইফতেখার বিন আজিজ এবং বর্তমানে ঢাকার সহকারী জজ মো. আবদুল্লাহ আল মাসুম এবং ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ পাটোয়ারী।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসে নিু আদালতের বিচারকদেও জ্যেষ্ঠতার তালিকায় থাকা ১০০ জনেরও বেশি জেলা জজকে ডিঙিয়ে নাসির উদ্দিন মাহমুদকে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এবং ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আবদুল মজিদকে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য করার প্রস্তাব দেয় আইন মন্ত্রণালয়। এই প্রস্তাব ১৪ আগস্ট নাকচ করে দিয়ে ময়মনসিংহের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল হুদাকে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ করার সুপারিশ করে সুপ্রিমকোর্ট। অদ্যাবধি এই সুপারিশও বাস্তবায়ন করেনি মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এমন একটি পদ, যেখানে সব সময়ই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। এই পদের অধিকারী পদাধিকারবলে নিম্ন আদালতে কর্মরত বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তিনি বিচার বিভাগের বিভিন্ন সমস্যা তথা সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে সরকারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই গুরুত্বপূর্ণ পদটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে কয়েক বছর ধরে। এছাড়া ঢাকার জেলা ও দায়রা জজকে হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ দেয়ারও রেওয়াজ রয়েছে। ফলে জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারকদের কাছে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ পদ অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কয়েক বছর ধরেই নিম্ন আদালতে কর্মরত জ্যেষ্ঠ বিচারকদের ডিঙিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগ দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। এতে জ্যেষ্ঠ বিচারকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালা-২০০৭ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শক্রমে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করবে। তাই বিচার বিভাগের যে কোনো কাজ অনুমোদনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়। সুপ্রিমকোর্টের অনুমোদন পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়নে পরবর্তী উদ্যোগ নিয়ে থাকে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs