সর্বশেষ সংবাদ :

বিশ্ব অর্থনীতির পরাশক্তি চীন

Share Button
5_157514
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০১৪।
ধস নামল প্রায় দেড়শ’ বছরের রাজত্বে। যুক্তরাষ্ট্রের এ দীর্ঘ সময়ের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শেষ পর্যন্ত সেরার স্বীকৃতি আদায় করে নিল চীন। আর এ শ্রেষ্ঠত্ব সামরিক শক্তির নয়, অর্থনীতির। একুশ শতকের শুরুতেই সংকেত দিচ্ছিল এশিয়ার এ দেশটির অর্থনীতি টর্নেডোর বেগে অগ্রসরমান। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ‘গ্রেটওয়ালের’ মতোই মজবুত অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছে চীন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ জরিপ প্রতিবেদন অনুসারে চীন এখন অর্থনৈতিক শক্তিতে বিশ্বের এক নম্বর দেশ। অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে চীনের এ অসাধারণ উত্তরণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বিশ্বজুড়ে। পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর সামনে চীন আজ এককভাবে সমৃদ্ধি আর উন্নয়নের মডেল।
আইএমএফের সাম্প্র্রতিক জরিপে চীনের অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে আরও বলা হয়েছে, ১৮৭২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রই ছিল বিশ্ব সেরা অর্থনীতি। ওই সময় অর্থনীতির শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে যুক্তরাজ্যকে হটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সেরার স্থানটি দখল করে। এতকাল পরে এসে চীন অদম্য শক্তিতে সেই শীর্ষস্থান দখলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেলে দিয়েছে আগের সেই দ্বিতীয় অবস্থানে। অবিশ্বাস্যভাবে থমকে গেল বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘অটুট’ মার্কিনরাজ।
বিশ্ব অর্থনীতির আকার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আইএমএফের জরিপে আরও দেখানো হয়েছে, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মানবসম্পদপূর্ণ দেশ ভারত। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে জাপান, পঞ্চমে জার্মানি। এরপরই রয়েছে রাশিয়া, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া। আর সেরা দশের শেষ নামটি যুক্তরাজ্য।
আইএমএফের পর্যালোচনা অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেছে চীনের অর্থনীতি। প্রায় সব খাতে ব্যাপক শিল্প বিপ্লবের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, চাহিদা, ভোগব্যয়, প্রযুক্তি ও সেবা, রফতানি সবই বেড়েছে। ব্যাপকভিত্তিক শিল্পায়নের ফলে বেড়েছে কর্মসংস্থানের হারও। এতে চীনের জনগণের আয় ও সঞ্চয় দুটোই বেড়েছে। এর ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ব্যাপভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এসব সূচক বেড়ে যাওয়ায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিরও ব্যাপক উর্ধ্বগতি হয়েছে।
আইএমএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সদ্য অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের বর্তমান অর্থনীতির আকার আর্থিকমূল্যে ১৭.৬১ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে শীর্ষস্থানচ্যুত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার ১৭.৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
আইএমএফ সম্প্রতি ক্রয়ক্ষমতার সমতার (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি বা পিপিপি) ভিত্তিতে অর্থনীতির আকার নির্ধারণ করেছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো দেশে সমপরিমাণ অর্থে বেশি দ্রব্য ক্রয় করার পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ চীনে দৈনন্দিন ব্যবহার্য ও চাহিদাযোগ্য সব জিনিসের ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে এমন ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের বাজার অনেক সস্তা।
এদিকে ১৭.৬১ ট্রিলিয়ন ডলারেই চীনের অর্থনীতির উল্লম্ফন থেমে নেই। প্রতি মিনিটেই বেড়ে চলেছে দেশটির অর্থনীতির আকার। তাই আইএমএফ এ বিষয়েও পূর্বাভাস দিয়ে বলেছে, ২০১৯ সাল নাগাদ চীনের অর্থনীতির আকার ২৬ দশমিক ৯৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে, যা হবে ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকারের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, সদ্য শীর্ষস্থান হারানো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির তেজ কমে গিয়ে ২০১৯ সাল নাগাদ হবে ২২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
বিশ্বে শিল্পায়নের অন্যতম মডেল হচ্ছে চীন। শত কোটির ওপরে জনসংখ্যার এ দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তিই হচ্ছে তার দক্ষ জনসম্পদ। তথ্যপ্রযুক্তিতে বেশ আগে থেকেই শ্রেষ্ঠত্বের তালিকায় রয়েছে চীন। দেশটি এখন শ্রমঘন শিল্পায়ন ছেড়ে বৃহৎ পরিসরের ভারি শিল্পায়নে অর্থাৎ শিল্পের চূড়ান্ত আধুনিকতার পর্যায়ে উপনীত হতে চলেছে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs