ঢাকা যাত্রাবাড়িতে সৎ মায়ে শিকার ৬ বছরের শিশু মাইমুনা।

Share Button
1412960708.
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০১৪।
 নিষ্পাপ শিশু মাইমুনা। বয়স মাত্র ৬ বছর। মাকে হারিয়েছে দেড় বছর বয়সে। বাবা ঢাকা ওয়াসার স্টোর কিপার আবদুর রাজ্জাক। সাড়ে ৪ বছর আগে মা রুনা বেগমের রহস্যজনক মৃত্যুর পর বাবার দ্বিতীয় বিয়ে। সেই থেকে বাবা ও সৎ মা সুমাইয়া ইসলাম শারমিনের সঙ্গেই বেড়ে উঠতে শুরু করছিল মাইমুনা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানাধীন ধলপুর ৯৪/১১, খালেকুজ্জামান গলির ভাড়া বাসায় তাদের বসবাস। মাইমুনার দাদীও থাকেন ছেলের বাসায়। ঈদের ছুটিতে আবদুর রাজ্জাক ছিলেন মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাবার অনুপস্থিতে সৎ মা শারমিনের গলা জড়িয়েই ঘুমিয়ে ছিলেন মাইমুনা। কিন্তু সৎ মা বলে কথা।
মাইমুনাকে কিছুতেই সন্তানতুল্য মেনে নিতে পারেননি শারমিন। শত্রু ভেবে গোড়াতেই ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেন। গভীর রাতে ঘুমন্ত মাইমুনার গলা চেপে ধরে মায়ের স্থানে থাকা ডাইনি শারমিন। চিৎকার দিতে না পেরে মৃত্যু যন্ত্রণায় হাত-পা ছুঁড়ছিল শিশুটি। তখন তার একটি হাত ভেঙে ফেলা হয়। কামড়ে ক্ষত বিক্ষত করে দেন শিশুটির পা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব শেষ। নিথর মাইমুনার কচি শরীর। এর পর মাইমুনাকে টেনে বাথরুমে নিয়ে পানি ভর্তি ড্রামের ভেতর ডুবিয়ে রাখেন। এরপর বন্ধ করে দেয়া হয় ড্রামের মুখ। শিশুটিকে হত্যার পর নিজ বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন শারমিন।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টা। ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যান মাইমুনার দাদী ফুলমতি। তখন কলে পানি ছিল না। পানি তুলতে ড্রামের ঢাকনি খুলেন। এর পরই চিৎকার। আদরের নাতনি শেষ। চিৎকার শুনে ছুটে এলেন ঘাতক শারমিন। পানি তুলতে গিয়ে মাইমুনা ড্রামে পড়ে গেছে শাশুড়িকে এমন সান্ত¦না দিতে থাকেন। দাদীর চিৎকার শুনে আসেন পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। অসংলগ্ন আচরণের কারণে পুলিশ শারমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খোলেন তিনি।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাইমুনার বয়স যখন দেড় বছর তখন তার মা রুনা বেগমের গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সাড়ে ৪ বছর আগে সে ঘটনাও ঘটে ধলপুরের একটি বাড়িতে। ওই সময় রুনার পরিবার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাককে আসামি করে মামলা করে। কিছুদিন পর ৭ লাখ টাকায় বিষয়টি রফাদফা হয়। আর সে টাকা মাইমুনার নামে ফিক্সট ডিপোজিট করা হয় একটি ব্যাংকে। সাবালিকা না হওয়া পর্যন্ত ওই টাকার নমিনি হন মাইমুনার নানি ফাতেমা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির পিতা আবদুর রাজ্জাক নিজে উপস্থিত না থাকলেও তার সম্মতিতে এ হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আবদুর রাজ্জাক ঢাকায় ফিরেননি। শিশুটির লাশ ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।