সর্বশেষ সংবাদ :

এখনই রাজনীতিতে আসছেন না —ডা. জোবায়দা রহমান

Share Button
4_157055
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০১৪।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে। তবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, বিশেষ পরিস্থিতির মুখে না পড়লে ডা. জোবায়দা রাজনীতিতে নামবেন না। খালেদা জিয়া, তারেক রহমানও চান না এখনই তিনি দলে সক্রিয় হোন। বিএনপি দুর্যোগে পড়লেই কেবল জিয়া পরিবার ও দলের ঐক্য ধরে রাখতে শাশুড়ি ও স্বামীর পরামর্শেই সাময়িকভাবে দলের হাল ধরতে পারেন তিনি।
ডা. জোবায়দা রহমান বর্তমানে মেয়ে জাইমাকে নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে অবস্থান করছেন। শিগগিরই তিনি দেশে আসছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে আসার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।
বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলাপকালে তিনি ডা. জোবায়দার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে জানতে চান। তিনি (খালেদা) কোনো মন্তব্য না করে মৃদু হাসি দেন। সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে আসা বেশ কয়েকজন নেতা যুগান্তরকে জানান, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক অবস্থাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে তারা তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কথা প্রসঙ্গে এক নেতা তারেক রহমানের কাছে জানতে চান, জোবায়দা রহমানের রাজনীতিতে স্বক্রিয় হওয়ার বিষয়টি কতটা সত্য? কিন্তু এই মুহূর্তে তার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে তাদের নিশ্চিত করেন তারেক রহমান। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যাতে কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে উপস্থিত নেতাদের পরামর্শ দেন তিনি।
জানতে চাইলে বিএনপির স্বনির্ভরতাবিষয়ক সম্পাদক ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু যুগান্তরকে বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি, জোবায়দা রহমান এই মুহূর্তে রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন না।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন যুগান্তরকে বলেন, জোবায়দা রহমান কেন এই মুহূর্তে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন? বিএনপিতে কি নেতৃত্ব সংকট চলছে? যারা এসব কথা ছড়াচ্ছে তাদের অন্য কোনো এজেন্ডা থাকতে পারে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, ডা. জোবায়দা রহমানের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া অনেক যদির ওপর নির্ভর করছে। সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলায় সাজা দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাকে সাজা দিয়ে গ্রেফতারও করা হতে পারে। সেরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে দলের হাল ধরতে পারেন জোবায়দা রহমান। কারণ খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে তারেক রহমানেরও দেশে আসা সম্ভব হবে না, এলে নিশ্চিত গ্রেফতার হবেন। এমন পরিস্থিতিতে জিয়া পরিবার ও দলের ঐক্য ধরে রাখতে জোবায়দা রহমানের বিকল্প নেই।
সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের মাঝে জোবায়দা রহমানের ভালো ইমেজ রয়েছে। তার বাবা নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান মাহবুব আলী খানও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে বউ হওয়ায় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ তাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে বলে নেতাকর্মীদের বিশ্বাস।
সিনিয়র নেতাদের মতে, বিএনপির ক্রান্তিকালে ডা. জোবায়দা দলের হাল ধরলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। দলের বর্তমান চেয়ারপারসনও জিয়াউর রহমান জীবিত থাকাকালে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। গৃহিণী হিসেবে স্বামীর পাশে ছিলেন। বিশেষ পরিস্থিতির কারণেই ঘর থেকে বেরিয়ে দলের হাল ধরেন খালেদা জিয়া।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs