সর্বশেষ সংবাদ :

বাংলাদেশের সর্বস্তরে চলছে অগণতান্ত্রিক শাসন : খালেদা জিয়া

Share Button
image_137106.khalaeda-kk
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ০৯ অক্টোবর ২০১৪।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছিল স্বৈরশাসক এরশাদ। গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই জেহাদ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে না পারলে তার আত্মা কষ্ট পাবে। আজো দেশে এবং সমাজের সর্বস্তরে অগণতান্ত্রিক অপশক্তি জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে। শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
খালেদা জিয়া বলেন,  শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নির্ভীক সৈনিক শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
তিনি বলেন, শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে একটি অবিস্মরণীয় নাম। রক্তঝরা ওই আন্দোলন ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে গিয়ে শহীদ জেহাদ পুলিশের বুলেট নিজের বুকে বরণ করে নেন। শাহাদাত বরণ করেন এই অকুতোভয় ছাত্রনেতা। তার রক্ত স্রোতের ধারা বেয়েই সে বছর সংঘটিত হয় গণঅভ্যুত্থান, পতন হয় স্বৈরশাসক এরশাদের ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছিল স্বৈরশাসক এরশাদ। গণতন্ত্রকে পূনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই জেহাদ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে না পারলে তার আত্মা কষ্ট পাবে। তাই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রা এবং এর বিকাশ সাধন করতে হবে, আর এর জন্য আমাদের আরো সংগ্রাম করতে হবে। গণতন্ত্র মানে শুধুমাত্র নির্বাচন নয়, মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। আজ রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে অগণতান্ত্রিক অপশক্তি জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে আছে। তাই শহীদ জেহাদের আত্মত্যাগের প্রেরণাকে বুকে ধারণ করেই দেশী-বিদেশী অপশক্তির চক্রান্ত প্রতিহত, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ত্ব রা এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সম হবো।
অপর এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অমর নাম। জেহাদ নিজেকে উৎসর্গ করেছেন গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে। তার এই মহিমান্বিত আত্মদানের ফলেই স্বৈরশাহী এরশাদের পতন হয়। শুরু হয় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা। নব্বইয়ের স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্রের বিজয়ে তার অগ্রণী ভূমিকার জন্য জাতি হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি। অগণতান্ত্রিক অপশক্তি নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে নেই। তারা চক্রান্তের কুটীল খেলায় রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই দুঃসময়ের নিষ্ঠুর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে কঠিন সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করবে শহীদ জেহাদের আত্মদান। যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ সেদিন স্বৈরাচারীর বুলেট নিজের বুকে বরণ করে নিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণে রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের আজকের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য। আর তাতেই শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মা শান্তি পাবে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs