সর্বশেষ সংবাদ :

প্রেসিডেন্ট ওবামা বনাম এক বাঙ্গালী পরিবার

Share Button

93799_1

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ০৯ অক্টোবর ২০১৪।

নিউ ইয়র্কে বাঙ্গালী ওয়াদুদ মাহমুদের পরিবারের উপার্জনের একমাত্র উৎস ছিল ছোট একটি খাবারের দোকান। খাবারের দোকানের আয় থেকে ওয়াদুদ মাহমুদ, স্ত্রী ফেরদৌসিকে নিয়ে নিউ ইয়র্কে গড়ে তুলছিলেন নিজেদের পরিবার। ওয়াদুদের কন্যা সন্তান নোরা ইউ ইয়র্কের একটি প্রাইভেট স্কুলে সেভেন্থ গ্রেডের শিক্ষার্থী। কিন্তু এই বাঙ্গালী পরিবারকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ওবামার সরকার।

ওয়াদুদ মাহমুদের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নিয়ে চলছিল আইনী জটিলতা। তিনি আইনী লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ওয়াদুদ মাহমুদকে আটক করে রাখা হয় ‘ডিটেনশন সেন্টারে’। সে সময় তাদের ছোট খাবারের দোকানটিও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিদারুন অর্থকষ্টে পড়ে যায় ওয়াদুদ মাহমুদের পরিবার।

ডিটেনশন সেন্টারে থাকার সময় ওয়াদুদ সবসময়ই বোঝার চেষ্টা করতেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে লাখো লাখো অবৈধ অভিবাসী থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন আটকে রাখা হয়েছে?’ ওয়াদুদ প্রশ্নটির উত্তর পান একজন অভিবাসন কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে। ওই অভিবাসন কর্মকর্তা বলেন, তুমি মুসলমান, এই জন্য তোমাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠান হবে!

শেষ পর্যন্ত ওয়াদুদ মাহমুদের সমস্ত আইনী অধিকার লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। কয়েক ডজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য তাকে ধরে নিয়ে যায় জেএফকে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। সেখান থেকে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে বিমানে উঠিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এইভাবে প্রতিদিন ২৫০টিরও বেশি পরিবার ভাঙ্গছে প্রেসিডেন্ট ওবামার ‘মিথ্যাচারে’। প্রেসিডেন্ট ওবামা বারবার অভিবাসন অধিকার কর্মীদের কাছে অঙ্গীকার করেছিলেন, তিনি ওয়াদুদ মাহমুদের মতো অভিবাসী পরিবারগুলোর কোন সদস্যকে দেশে ফেরত পাঠাবেন না। অথচ নিউ ইয়র্কের এই বাঙ্গালী পরিবারটির মতো আরও অসংখ্য পরিবারকেই এইভাবে ভাঙ্গনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠান হচ্ছে, তারা জানে না কখন কিভাবে তারা মিলিত হতে পারবেন নিজেদের পরিবারের সাথে। এইভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলো ভুগছে ভয়ঙ্কর মানসিক যন্ত্রণায়।

এই মানসিক যন্ত্রণা তুলে ধরতে সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওয়াদুদ মাহমুদের কন্যা নোরা। তিনি বলেন, ‘আমার মা এখন বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তাও বুঝতে পারি না। এমনকি তিনি আমাকে চিনতে পারছেন কি না তা নিয়েও আমার সন্দেহ হয়। তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। আমাকে দেখার মতো কেউ এখন আর নাই।

‘আমি জানতাম না যে, আমার বাবার ওয়ার্ক পারমিট ছিল না। আবার পিতা-মাতাও বিষয়টা কখনও আমাকে বলেনি। আমিও এই বিষয়টা নিয়ে ভাবার কোন প্রয়োজন মনে করিনি। আমি ভেবে নিয়েছিলাম, বাবার ওয়ার্ক পারমিট আছে। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু পরিবর্তন খেয়াল করলাম। বাবাকে আটক করে পুলিশ। মনে হয়, আমার দোষের কারণেই বাবাকে আটক হতে হয়েছে’।

নোরা ওই সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘যেকোন মানুষের মতো আমারও অধিকার আছে পিতামাতার সঙ্গ পাওয়ার। কিন্তু আমার বাবাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান হয়েছে। ফলে, আমি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎয়ের মুখোমুখি হচ্ছি’।

নতুনদিনের তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, ওয়াদুদ মাহমুদের মতো এমন আরও অনেক বাঙ্গালীই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছেন আনুষ্ঠানিক অভিবাসনের পদ্ধতি অনুসরণ না করে। মূলতঃ কোস্টারিকা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও নেপাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত মানুষ প্রবেশ করছেন। এইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত না পাঠানর অঙ্গীকার করলেও তা রাখছেন না ওবামা। ফলে, লঙ্ঘিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়া পরিবারগুলোর মানবাধিকার।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs