রিজভীসহ ৪৫৪ বিএনপি নেতাকর্মী কারাগারে, ২৩ জন রিমান্ডে

Share Button

রিপোর্টার:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
০৮ ডিসেম্বর. ২০২২। সময :০৮.০০.PM.

রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক তিন থানায় দায়ের করা মামলায় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ৪৫৪ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ২৩ জনকে দুইদিনের রিমান্ড পাঠানো হয়।

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। একই ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েলকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আটক বিএনপি নেতাকর্মীদের রিমান্ড ও জামিন শুনানির জন্য আজ সন্ধ্যায় আদালতে তোলা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ২৩ জনকে সাত দিনের রিমান্ড চান পুলিশ। ‌উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন আদালত।

রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন-বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, বিএনপি নেতা শাহজাহান, একে এম আমিনুল ইসলাম, ওয়াকিল আহমেদ, সজীব ভূঁইয়া, সারোয়ার হোসেন শেখ, সাইদুল ইকবাল মাহমুদ, মিজানুর রহমান, আল আমিন, সাইফুল, শুভ ফরাজি ও মাহমুদ হাসান রনি।

এর আগে, রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন, মতিঝিল ও শাহজাহানপুর থানায় পৃথক ৩টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার।

এর আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ৪৫২ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপাসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল প্রমুখ। এর আগে রাজধানীর পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন।

আদালত চত্বরে দুইপক্ষের আইনজীবীরা: নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় আটক নেতাকর্মীদের প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হয়।

প্রথমে বেলা পৌনে একটার দিকে প্রথম প্রিজন ভ্যানটি ঢাকা সিএমএম আদালত চত্বরে এসে পৌছায়। এরপর পৌনে তিনটার দিকে আটককৃতদের নিয়ে আরও দুটি প্রিজন ভ্যান আসে। একে একে ১১টি প্রিজন ভ্যানে করে বিএনপির আটক আসামিদের আদালতে আনা হয়।

এ সময় ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সন্ধ্যা পর্যন্ত পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে আটক নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্তে মুক্তি দাবি করা হয়। অন্যথায় সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা বলেন, আদালত এলাকায় কোনোরকমের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।

আদালত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা: আটক করা সাড়ে চারশ’ বিএনপি নেতাকর্মীকে আদালতে হাজির করার লক্ষে আজ সকাল থেকেই পুরো আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আদালতে ডিসেম্বর মাসে বাৎসরিক অবকাশ থাকায় আইনজীবীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

বেলা ২টার পর থেকে সিএমএম কোর্ট এলাকার পূর্বপাশের প্রধান গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছোট গেইট খোলা থাকলেও তল্লাশি করে সবাইকে ঢোকানো হয়। বিএনপির আটককৃত আসামিদের পরিবার ও স্বজনরা আসলেও তারা কোর্ট এবং হাজতখানার সামনে অবস্থান করতে পারেনি। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।